বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তী নায়ক রাজ্জাক

চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তী নায়ক রাজ্জাক। অভিনয় দিয়ে যিনি কোটি কোটি মানুষের মন জয় করেছেন। রূপালি পর্দায় তার অসাধারণ অভিনয়, কথা-বার্তায়, চলনে-বলনে নিজস্ব স্টাইলে অভিভূত ছিল সবাই। দর্শক-ভক্ত হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন নায়করাজ হিসেবে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিকেল পাঁচটার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চিকিৎসকরা জানান আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি।

বস্তুতঃ নায়করাজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়। ষাট দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে অর্ধশতাব্দী বিচরণ করেছেন চলচ্চিত্রে। অভিনয় দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের হৃদয়। জন্ম তার অবিভক্ত ভারতের কলকাতায়। কৈশোরে ইচ্ছা ছিল ফুটবলার হওয়ার। গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেনও ভালো। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে টেনে নিয়ে যায় অভিনয় জগতে। সেখানে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন।

ভাগ্যান্বষণে ১৯৬৪ সালে রাজ্জাক চলে আসেন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ)।  ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। টেলিভিশনে নাটক করেছেন। ঢাকার চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন পরিচালকের সহকারী হিসেবে। কয়েকটি ছবিতে ছোটখাট চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। এরপর পরিচালক জহির রায়হান তাঁর বেহুলা ছবির নায়কের চরিত্রে নিলেন রাজ্জাককে। একই পরিচালকের আগুন নিয়ে খেলা ছবিতে অভিনয় করলেন।

এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। অভিনয় গুণে, পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। যে চরিত্রেই তিনি অভিনয় করেছেন সেই চরিত্রেই তিনি নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন নায়করাজ হিসেবে। অভিনয়ের পাশাপাশি, চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনায় যুক্ত হন এবং সেখানেও তিনি সফল। অসাধারণ সব ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি দর্শকদের।

ওরা ১১ জন, আলোর মিছিল, অবুঝ মন, রংবাজ, বেঈমান, অনন্ত প্রেম, অগ্নিশিখা, মাটির ঘর, অশিক্ষিত, আগুন, অনুরাগ, ছুটির ঘণ্টার মতো অসাধারণ সব ছবি করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি সুচন্দা, কবরী, শাবানা, ববিতার সঙ্গে একের পর এক সফল জুটি উপহার দিয়েছেন। তবে কবরীর সঙ্গে তাঁর জুটিই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বেশ কয়েক প্রজন্ম তাকে নায়ক থেকে শুরু করে এ সময়ে এসে একজন সফল অভিনেতা হিসেবেও দেখেছেন। এ কারণেই তার প্রজন্মে কিংবা তার পরবর্তী প্রজন্মে এমন অনেক নায়কই আছেন যারা নায়করাজের মতো নায়ক হতে চেয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি এমনই একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করতেন সব শিল্পী-কলাকুশলী। শুধু দেশের নয়, দেশের বাইরেও অগনিত বাঙালির প্রিয় নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কালজয়ী এই অভিনেতার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।