চাণক্যের দর্শনে আলোকিত হোক আপনার জীবন

ওয়ার্ল্ড বিডি নিউজ.কম, ঢাকা : প্রাচীন ভারতবর্ষে জন্ম নেয়া বিখ্যাত দার্শণিক, রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চাণক্যের চমকপ্রদ অনেক উপদেশ এখনো সমান গুরুত্ব বহন করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩৭১ এ জন্মগ্রহণ করেন চাণক্য। তখন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যর নেতৃত্বে ভারতবর্ষে যে বিশাল সাম্রাজ্য ছিল, তার পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছিলেন চাণক্য।

চাণক্যের কালজয়ী কিছু জীবন দর্শন সম্পর্কে জানি চলুন। এসব উপদেশ হয়তো আপনার জীবনটাও হঠাৎ পাল্টে দিতে পারে। ব্যর্থতার গ্লানি থেকে আলোর পথ দেখাতে পারে আপনাকে। চাণক্যের কালজয়ী কিছু উপদেশ-

* অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। কারণ সেসব ভুল তুমি তোমার জীবদ্দশায় নাও করতে পারো।

* একজন মানুষের খুব বেশি সৎ হওয়া ঠিক না। সোজা গাছ কাটা পড়ে আগে, তেমনি সৎ লোকেরা প্রতারণার শিকার হয় আগে।

* এমনকি একটি সাপের যদি বিষ নাও থাকে, এরপরও তাকে বিষধর হিসেবেই নিজেকে জাহির করতে হবে।

* প্রত্যেকটা বন্ধুত্বের পেছনে একটা ব্যক্তিগত স্বার্থ লুকিয়ে আছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়া কোনো বন্ধুত্ব হয় না। এটা একটা তিক্ত সত্য।

* কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে সব সময় তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করো- আমি এটা কেন করছি, এর ফলাফল কি হতে পারে এবং আমি কি সফল হবো? গভীরভাবে চিন্তা করে যখন নিজের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর পাবে, তখনই এগিয়ে যাবে।

* যখনই ভয় তোমার কাছে আসবে, তাকে আক্রমণ করো ও ধ্বংস করো।

* পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যৌবন ও নারীর সৌন্দর্য।

* যখন কোনো কাজ শুরু করবে, তখন ব্যর্থ হওয়ার ভয় করবে না বা কাজ ছেড়ে দেবে না। যেসব মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে তারাই সবচেয়ে সুখী।

* ফুলের সুবাস শুধু বাতাসের সঙ্গেই ভেসে বেড়ায়। আর একজন মানুষের ভালোত্ব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

* ঈশ্বর মূর্তির মধ্যে থাকে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার ঈশ্বর। আর আত্মা হলো মন্দির।

* একজন মানুষ তার কাজের মাধ্যমেই মহান হয়, জন্মের মাধ্যমে না।

* তোমার মর্যাদার চেয়ে উপরের বা নিচের মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না। এ ধরনের বন্ধুত্ব কখনো সুখ দেবে না তোমাকে।

* প্রথম ৫ বছর তোমার সন্তানকে আদর মমতায় বড় করো। এর পরের ৫ বছর শাসন করো তাদের। বয়স ১৬ পার হলে বন্ধুর মতো আচরণ করো তাদের সঙ্গে। তোমার বেড়ে উঠা সন্তান তোমার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

* শিক্ষা সবচেয়ে বড় বন্ধু। একজন শিক্ষিত মানুষ সব জায়গায় সম্মানিত হন। শিক্ষা সৌন্দর্য ও যৌবনকে ছাপিয়ে যায়।