যবিপ্রবিতে ভিসির অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

যশোর : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবমাননা এবং ছাত্রলীগ সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ইকবাল কবীর জাহিদকে বহিষ্কার ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধন চলাকালে ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছরের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করেছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছবি অবমাননা করেছেন। এজন্য তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। এছাড়া তারা ছাত্রলীগ সম্পর্কে বিভিন্ন সময় কটূক্তি করে আসছে। তারা আমাদের এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে আসছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন স্তব্ধ করতে চায়। আমরা এই অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।’
এর আগে তারা ক্যাম্পাসে নৌকা প্রতীকের অবমাননা করেন। তাদের শাস্তির দাবিতে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ১০ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।
অপরদিকে সোমবার সকালে চাকরির ভয় দেখিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের মানববন্ধন ও মৌন মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ওই দিন দুপুরে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে দুই দফা দাবিতে শিক্ষকদের একটি অংশ এই মানববন্ধন ও মৌন মিছিলের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেনের ইন্ধনে শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ ও সম্পাদক নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি একাধিক স্থানে অবমাননা করা হয়। এর আগের বছরেও ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়। এনিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন এবং শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে একটি মামলা করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল।এরপর থেকে বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে নামানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ভিসির হাতে। তিনি নেপথ্যে থেকে শিক্ষক সমিতিকে ব্যবহার করে নানা রকম অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে কথা বললেই চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে। যে কারণে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মানববন্ধনে অংশ নিতে হচ্ছে।’
তারা আরো জানান, অতীতের সকল অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন বর্তমান উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি সব জায়গা থেকে হিস্যা নিতে গিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে চলছে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পান না। আজ শিক্ষক পরিষদের নেতারা জোর করে সাধারণ শিক্ষকদের মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ইকবাল কবীর জাহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। সব শিক্ষক আমাদের দাবির সাথে একমত।