যশোরে গাছির সন্তানদের এগিয়ে নিতে ৩৪ জনের স্কুল ব্যাগ প্রদান

যশোর : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৩৫ শিক্ষার্থীর হাতে স্কুল ব্যাগ ও ৩৪ জন গাছির (খেজুর গাছ থেকে গুড় সংগ্রাহক) হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন ই-কমার্স পোর্টাল ‘কেনারহাট ডটকম’র উদ্যোগে বুধবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মিলনায়তনে গাছি ও গাছির সন্তানদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
কেনারহাটের (িি.িশবহধৎযধঃ.পড়স) মাধ্যমে সারাদেশে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়-পাটালি বিক্রির টাকা থেকে গাছি ও গাছির সন্তানদের এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজনে যশোরের জেলা প্রশাসন সহযোগিতা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনজন গাছির তিনটি সন্তানের আজীবন লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কেনারহাটের উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল। তিনি বলেন, ‘ভেজালের কারণে মানুষ যশোরের প্রসিদ্ধ খেজুরের গুড়-পাটালি খেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। নিবিড় তত্ত্বাবধানে ভেজালমুক্ত গুড়-পাটালি উৎপাদন করে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার যে উদ্যোগ তরুণেরা নিয়েছেন; তা যেন অব্যাহত থাকে। অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের ক্ষেত্রেও যেন ভেজালমুক্ত রাখার আন্দোলন তারা চালিয়ে যান। মানুষ কাছে টাকা এখন কোন সমস্যা না। সমস্যা হলো নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা।’
গাছিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভেজালমুক্ত গুড়-পাটালি উৎপাদন করবেন। সাদা চিনি মানেই বিষ। এই বিষ গুড়ে মেশাবেন না। আপনারা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে কেনারহাটে গুড়-পাটালি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। তাহলে ভেজাল দিবেন কেন?’
তারুণ্যের নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন- এ শ্লোগানে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। কেনারহাটের উদ্যোক্তাদের একজন শফিউল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উদ্যোক্তা নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেনারহাটের কর্মকর্তা অদিতি সরকার।
স্বাগত বক্তব্যে আরেকজন উদ্যোক্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু খেজুরের গুড়-পাটালি না। যশোরের বিখ্যাত খাদ্য দ্রব্য যেমন-ঘি, মধু, চুইঝাল শতভাগ নির্ভেজাল নিশ্চিত করে িি.িশবহধৎযধঃ.পড়স নামে একটি অনলাইন ওয়েব সাইডের মাধ্যমে সারাদেশে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। আয়ের একটি অংশ সমাজের পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ায় ব্যয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা তিনজন গাছির তিনটি সন্তানের আজীবন লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে মন্টু মোল্লা নামে একজন গাছি বলেন, ‘বাজার দরের চেয়ে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে শীত মৌসুম ধরে কেনারহাটে নির্ভেজাল রস-গুড় ও পাটালি বিক্রি করছি। আমরা এখন ন্যায্য দাম পাচ্ছি। এভাবে দাম পেলে আমরা এ পেশা ধরে রাখতে পারবো।’