মাকে মারপিটের কারণে রাজমিস্ত্রি কামরুলকে খুন করা হয়

যশোর : যশোরের কেশবপুরে কামরুল ইসলাম দফাদারকে খুনের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি জাহিদুল ইসলাম। সহকর্মী রাজমিস্ত্রি আলামিনের মাকে মারপিটের কারণে কামরুলকে হত্যা করা হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। বুধবার যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দিন হোসাইন জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে সাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কামরুল ইসলামকে।
জাহিদুল ইসলাম জানান, কেশবপুর উপজেলার ব্রহ্মকাটি গ্রামের নজরুল ইসলাম দফাদরের ছেলে আলামিন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে তিনি কেশবপুর বাজারে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এসময় আলামিনের চাচা মিন্টু মোবাইল ফোনে তাকে জানায় কামরুল ইসলাম দফাদার তো মাকে মারপিট করছে। এরপর আলামিন ও জাহিদুল তার মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে। আলামিন বাড়িতে এসে কামরুল দফাদারকে বলে তুই আমার মাকে মারছিস কেন। এরপরই পাশে ছিল একটি লোহার সাবল। আলামিন সেই সাবল দিয়ে কামরুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলে কামরুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ আগস্ট সকালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে কেশবপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান আহমেদ যশোর আদালতে আলামিন ও তার মা খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে চার্জশিট দাখিল করেন। একই সাথে এ চার্জশিটে জাহিদুল ইসলাম দফাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলম রাজমিস্ত্রিকে অব্যাহতির আবেদন করা হলে মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। বিচারক মামলাটি পুনঃরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দেন। পিবিআইর পরিদর্শক সুরেশ চন্দ্র হালদার এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আছির উদ্দিন দফাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলামকে আটক করেন। পুলিশের হাতে আটকের পর কামরুল ইসলামকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জাহিদুল আদালতে এ জবানবন্দি দিয়েছে।