যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব

যশোর : যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে টাকার রশিদ দেয়া হচ্ছে না। আর টাকা দেয়ার পরও পরীক্ষার সকল রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্যাথলজি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগসাজসে পরীক্ষার জন্য টাকা না দিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, টাকার রশিদ না দিলে হিসাবের খাতায় কোন টাকা জমা দিতে হয় না। ফলে সহজে ওই টাকা আত্মসাৎ করা যায়। হাসপাতালের উর্ধতন কতিপয় কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করে থাকেন।
জানা গেছে, যে সকল রিপোর্টের সাথে টাকার রশিদ দেওয়া হয় সেই টাকার হিসাব- হিসাবের খাতায় তোলা হয়। আর যাদের টাকার রশিদ দেয়া হয় তার হিসাবও হাসপাতালের কোথাও হিসাবে না তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত ২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসা নিতে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের মৃৃত ইমান আলীর ছেলে হাসেম আলী (৬০)। যার রেজিনং (৬০১১/১৭৭) তিনি ৪ ফেব্রুয়ারী রক্তের পরীক্ষা, প্রসাব পরীক্ষা করতে ৫শ ৩০ টাকা দিয়ে ছিলেন হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিকট। তিনি অভিযোগ করেন হাসপাতালের কর্মচারীরা টাকার রশিদ না দিয়ে ওই দিন বিকালে আমার রিপোর্টটা দিয়ে যায়৷
ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁঁদপুর উপজেলার তালাশ গ্রামের মৃৃত আকবার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৬৫) গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। যার রেজিনং (৫৯১১/১১৯) তিনিও ব্লাড পরীক্ষা, প্রসাব পরীক্ষা করতে হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারির নিকট ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ৫শ ৩০ টাকা দিয়েছিলেন। ওই দিন বিকালে আমার রিপোর্ট দেয়া হয় কিন্তু কোর রশিদ দেয়নি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামের মৃৃত. নফেজ মহল দারের ছেলে শফিউদ্দিন (৮০)। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পেইং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। যার রেজিনং(৫৮৭৩/৮১)। তার স্বজনরা জানান, ব্লাড পরীক্ষা ও প্রসাব পরীক্ষার জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ১শ ৭০টাকা নিয়েছে হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগের দায়িত্বরত কর্মচারী। তিনি আমার রিপোর্টটা দিয়েছিলো। কোন রশিদ দেয়নি।
এভাবে অসংখ্য রোগীদের অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা বাবদ নগদ টাকা হাসপাতালের বর্হি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও অন্ত বিভাগের কর্মচারীর নিকট দিয়ে থাকে, তাদের কোন টাকার রশিদ দেয়া হয়না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, কর্মচারি ও একাধিক রোগী এবং রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, এঅবস্থা ১০/১৫ বছর ধরে চলছে। কেউ কোন টু শব্দ করে না।
হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগের ইনচার্জ গোলাম মোস্তফার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
জানতে চাইলে প্যাথলজী বিভাগের চিকিৎসক হাসান আব্দুল্লা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে যশোর মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক এ এইচ এম আব্দুর রউফ বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের ভিতর প্যাথলজী বিভাগে সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়। যা আমাদের কাম্য নয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এর প্রতিকার চাই। হাসপাতালের তত্বাধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি দুর্নীতি করি না। বিষয়টি শুনলাম। প্যাথলজী বিভাগের সকল দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।