যশোরের বসুন্দিয়ার মানুষ লাবুয়াল হকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ

jashore press mitup

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বসুন্দিয়ায় দুর্বৃত্ত ও মামলাবাজ এস এম লাবুয়াল হক রিপন এলাকার মানুষের নামাজ, জানাজার নামাজসহ ধর্মীয় সকল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। ওই মামলাবাজ দুর্বৃত্তের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বসুন্দিয়া এলাকার কয়েকশ সাধারণ মানুষ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বসুন্দিয়া মোড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আলী আহম্মদ ফারাজী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বসুন্দিয়া মোড়ে ২৭ শতক জমির উপর একটি মাদ্রাসা, একটি হাফেজিয়া ও একটি দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দাগে ও খতিয়ানে চুড়ান্তভাবে রেকর্ড হয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। হাল দাগের উপর প্রতিষ্ঠান তিনটি রয়েছে। মসজিদটিতে প্রতিদিন এক হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করেন। এতিমখানায় ৮০জন শিক্ষার্থী কোরআনের হাফেজ শিক্ষায় অধ্যায়ন রয়েছে। মসজিদে মুসল্লী দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদ সংস্কার দেখা দেয়। এজন্য মসজিদ সংস্কারের জন্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। একই সাথে প্রতিষ্ঠান তিনটির সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এজন্য বসুন্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিষ্ঠান তিনটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এ লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই সীমানা নির্ধারণের জন্য দিন ঠিক করা হয়। কিন্তু এর আগে সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সীমানা নির্ধারণের পরিমাপ স্থগিত করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বনে, সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি এস এম লাবুয়াল হক রিপন মসজিদ, এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসার সামনের খোলা জায়গায় পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে জোর পূর্বক ঘর নির্মাণ করেন। এতে করে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যে কারণে মসজিদের মুসল্লী, এতিমখানার ছাত্রদের খেলাধুলা, রমজান মাসে মুসল্লীদের ইফতার, জানাজার নামাজ, ঈদুল ফিতরের নামাজের বিঘœ ঘটে। ঈদুল ফিতরের আগে নামাজের জন্য মাঠে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে লাবুয়াল হক রিপন যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।

তিনি বলেন, এস এম, লাবুয়াল হক রিপন সাংবাদিক হওয়ার কারণে এলাকার নিরহ মানুষদের পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নিজের অবৈধ স্বার্থ হাসিল করে। তার বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বসুন্দিয়া ফাড়ির ইনচার্জকে জানানো হলে তিনি বলেন,ওই সাংবাদিক আমার কাছে অবৈধ মাসিক মাসোয়ারা দাবি করে। মাসোয়ারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হন বলে জানান।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এই দুর্বৃত্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বসুন্দিয়া মোড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারি জালাল উদ্দিন, ইমাম শেখ আব্দুর রশিদ, বসুন্দিয়া মোড় হাফেজিয়া এতিমখানা কমিটির সেক্রেটারি রফিক বিশ্বাস, দাতা সদস্য কাওসার আলী প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে মসজিদ, মাদ্রার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কোতয়ালি থানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করে সংবাদ সম্মেলনের অনুলিপি প্রদান করেন।