দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড : ঋণ পেতে খুশি করতে হয় কর্তাদের

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: লোভ দেখিয়ে যশোরের অন্তত: হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতির অনুমোদিত এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ গ্রহকদের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা ‘ব্যাংক’ নাম বলে সহজ সরল মানুষদের সাথে প্রতারণা করছে। আর ঋণ পেতে কর্তাদের দিতে হচ্ছে উৎকোচ। উৎকোচ ছাড়া কেউ এখানে ঋণ পায় না। আর এই প্রতারণা শুরু হয়েছে বর্তমান ম্যানেজার আবুল হাসান যোগদানের পর থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ম্যানেজার আবুল হাসান যোগদানের পর থেকেই নানা রকম অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু হয়। তিনি গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার জন্য ঘুষের প্রচলন শুরু করেছেন। তার কারণেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। ম্যানেজার আবুল হাসান, সেকেন্ড অফিসার জাফেরুল ইসলাম ও ফিল্ড অফিসার শওকত হোসেন মিলে এসব অনিয়ম -দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডে আমানত রাখলে সাড়ে ১০ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়। আবার খুব কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। এই লোভ দেখিয়ে যশোরের অন্তত: হাজারের বেশি মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নামের শেষে ব্যাংক ব্যবহার করা হলেও এটি একটি সমবায় সমিতি। সমিতিটি থেকে ঋণও পাওয়া যায় খুব সহজেই। কিন্তু এই ঋণ পেতে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড এর কর্তদেরকে খুশি করতে হয়। কর্তারা খুশি হলেই দিনে দিনেই মেলে ঋণ। আর কেউ খুশি করতে না পারলে তার ঋণ কোন দিনই মেলে না। আর এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে যশোরের গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের প্রতারণার শিকার যশোর ফল ব্যবসায়ী ফোরকার হোসেন। মেসার্স রশনি এন্টারপ্রাইজের মালিক ফোরকান হোসেন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে গত চার বছর ধরে লেনদেন করে আসছেন। প্রথম প্রথম বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গ্রাহক করা হয়। ২০১৬ সালে ফোরকান হোসেনকে দুই লাখ টাকা ঋণ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর লেনদেন ভালো হওয়ায় ২০১৭ সালে তিন লাখ, ২০১৮ সালে পাঁচ লাখ এবং একই বছর আর চার লাখ টাকা ঋণ দেয়। এসময় বলা হয়, আপনি দ্রুত ঋণ পরিশোধ করেন। আপনাকে আট লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হবে। তাদের কথা মতো ফোরকান হোসেন দ্রুত ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু ঋণ নিতে গেলে তাকে নানা শর্ত দেওয়া হয়। সব শর্ত পূরণ করার পর তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আপনার ঋণ দেওয়া যাবে না। এসময় ফোরকান হোসেনের সঞ্চয় জমা ছিল প্রায় এক লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে ফোরকান হোসেন বলেন, আমি দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সব শর্ত পূরণ করে ঋণ চেয়েছি। কিন্তু আমাকে ঋণ দেওয়া হয়নি। আমার কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে।

শুধু ফোরকান হোসেন নয়, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের প্রতারণা শিকার আরও এক ফল ব্যবসায়ী। তিনি হলে নিউ আল আমিন ফল ভান্ডারের মালিক বিপুল আহমেদ।

বিপুল আহমেদ জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সাথে লেনদেন করে আসছেন। এসময় তার সঞ্চয় জমা হয় দুই লাখ টাকা।

মাঠ কর্মী শওকত হোসেন তাকে জানায়, ‘এবার তাকে ছয় লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। তাদের কথা মতো সব শর্ত পূরণ করে ঋণ নিতে গেলে টালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ বলা হয় তাকে ঋণ দেওয়া যাবে না। কি কারণে ঋণ দেওয়া যাবে না সে ব্যাপারে কিছুই বলছে না।’

তিনি বলেন, ছয় লাখ টাকার জন্য তার কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সুদসহ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হলে আমাদের জমি বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অভিযোগের ব্যপারে সেকেন্ড অফিসার জাফেরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাকরি করি। আদের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করি। ঋণ দেওয়ার বিষয়টি হেড অফিস জানে। কে ঋণ পাবে আর কে পাবে না তার দায়িত্ব ঢাকা অফিসের। আমাদের করার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার আবুল হাসান বলেন, সব অভিযোগই মিথ্যা। এখানে কোন ঘুষের লেনদেন হয় না।