মাদক ব্যবসায় প্রতিবাদ করায় চৌগাছা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার: মাদক ব্যবসায় প্রতিবাদ করায় যশোরের চৌগাছায় একটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ির মহিলারা পালিয়ে গেলে ওই বাড়িতে তান্ডব চালায়। ঘরের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে পৌর শহরের চাদপুর গ্রামের পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান বিশ্বাসের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে বাড়ির আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভাংচুর করেছে। দৃর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় আতিয়ার রহমান বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে।

আতিয়ার রহমান বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে চৌগাছা বাজারে আসেন। সন্ধ্যা রাতে বাড়িতে কোন পুরুষ ছেলে ছিল না। এমন সময় এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল, ইমরান, ইকরামুল, সুজন, রাজু, আরজু, উজ্জ্বল, সুজল মিয়া, শফিকুল ইসলাম, তাছলিম, তরিকুল, রবিউল, সজলসহ ২৫/৩০ জন তার বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীরা তার বাড়িতে ঢোকার সময় গুলাগুলি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি নারী ও শিশুরা পালিয়ে যায়। এসময় তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। এরপর ঘরে থাকা ফ্রিজ, দুটি এলইডি কালার টিভি, ঘরের থাই গ্লাসের জানালা, শোকেচ, ডাইনিং টেবিল ভেঙে তছনছ করে। এছাড়া ওয়ার ড্রপে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এসময় ঠেকাতে গেলে সাবানা খাতুন ও তার মেয়ে সুমি আক্তারকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে চলে যায়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা আতিয়ার বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।

তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এলাকায় তাদের মাদক ব্যবসা ও সেবন বন্ধ করার কথা বলার কারণে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ফয়সাল ও রাজু এলাকার চিহ্ণিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তাদের কাছে সব সময় অবৈধ অস্ত্র থাকে। তাদের অপকর্মের ব্যাপারে এলাকার সব মানুষ অবহিত। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পায় না। যে কারণে তারা এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। তাদেরকে ধরে রিমান্ডে নিলে অস্ত্র ও মাদককের বিশাল ভান্ডর সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

আতিয়ার রহমান বিশ্বাস বলেন, এসব সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের নামে থানায় এক থেকে দেড় ডর্জন মামলা রয়েছে। তারপরও তারা বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিফাত খান রাজিব বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আসামিদের ব্যবাপারেও খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চালাচ্ছি।