যশোরের শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী বিহারী শাকিল ও আরিফের ডেরা থেকে এবার চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার

যশোর : যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী আরিফ-শাকিলের ডেরা থেকে এবার চোরাই মোটর সাইকেল জব্দ করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। শনিবার রাতে শহরের মোল্লাপাড়া থেকে একটি লাল রঙের পালসার মোটর সাইকেল জব্দ করে পুলিশ। যার নং ঢাকা মেট্টো-ল-২১-৬৯২৩।
কোতয়ালি থানার এসআই মিরাজ হোসেন জানান, শনিবার রাতে শহরের মোল্লাপাড়া থেকে একটি কাগজপত্র বিহীন মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। কেউ মোটর সাইকেলটির কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ফলে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে গত ২৮ নভেম্বর রাতে যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী জয়েব হোসেন শাকিল ওরফে বিহারী শাকিলকে চারটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের সদস্যরা। বিহারী শাকিল যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল ওরফে আউয়াল মিস্ত্রির ছেলে। তার ছোট ভাই সন্ত্রাসী আরিফও তার সহযোগী। তাদের দুই ভাইয়ের অত্যাচারে মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড, আরএন রোড, টায়ার পট্ট্,ি মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষ অতিষ্ঠ। তারা অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাই ব্যাটারি ক্রয়-বিক্রয়, চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত।
সূত্র জানায়, গত বছর ১২ মে যশোর উপশহর উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের পাশে ইজিবাইক চালক তুরান হোসেনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ মে তুরান হোসেনের ইজিবাইকের ব্যাটারি উদ্ধার হয় আরিফ-শাকিলের খালাতো ভাই জুয়েলের ডায়মন্ড ব্যাটারি ওয়ার্কসপ দোকান থেকে। অভিযোগ রয়েছে, আরিফ-শাকিলের চোর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক জুয়েল। জুয়েল চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। সম্প্রতি জুয়েল অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে ব্যাটারি পট্টির বৌ বাজার এলাকায় একটি জমি কিনেছেন।
ঢাকা রোড মোল্লাপাড়া এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালে মোল্লাপাড়া প্রাইমারী স্কুল এলাকার ব্যবসায়ী বরাত হোসেন সাথে বিবাদ হয় আরিফ-শাকিলের। সে সময় আরিফ-শাকিল হুমকি দিয়ে বলে, মোটর সাইকেল নিয়ে এসছিস। তোর মোটর সাইকেল থাকবে না। এরপর দিনই বরাত হোসেনের বাড়ি থেকে কালো রঙের পালসার মোটর সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়।
সুত্র জানায়, যশোরের জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন হত্যা মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামি আরিফ। আরিফের দেওয়া অস্ত্রে খুন হন ইউপি চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন।
সূত্র জানায়, যশোরের আদি চোরাই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ী আরিফ ও শাকিল। তাদের হাত দিয়েই এ অঞ্চলে অবৈধ চোরাই অস্ত্রের ব্যবসা শুরু হয়। আরিফ-শাকিল বেশ কয়েকবার অস্ত্রসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে তারা জামিনে বের হয়ে আবার তাদের অবৈধ ব্যবসা শুরু করে।
সূত্র জানায়, আরিফ-শাকিল অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা নির্বেঘেœ করতে বিভিন্ন সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ভর করে।
অভিযোগ রয়েছে, এই অস্ত্রের ব্যবসার একটি ভাগ পেতেন ওসি অপূর্ব হাসান। অপূর্ব হাসানের আগে কোতয়ালি থানার দায়িত্ব পালন করেন ওসি আজমল হুদা। ওসি একেএম আজমল হুদার সাথে তাদের প্রকাশ্য সখ্য নানান সমালোচনার জন্ম দিলেও ওই পুলিশসহ অপরাধী দুই ভাইয়ের কেউই তা কেয়ার করতেন না। তাদের সম্পর্ক এমন পর্যায় যায় যে, এ নিয়ে থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। আজমল হুদার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দুই সহোদর শাকির ও আরিফ বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই তারা অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়। গভীর রাতে থানায় ওসির দফতরে দরজা বন্ধ করে আড্ডা দিতো তারা।
পুলিশের সূত্র জানায়, ওসির সাথে এ সখ্যের মূল কারণ ছিলো অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা নির্বিঘœ করার কৌশল। এক্ষেত্রে বড় অংকের টাকা খরচ করতে হতো এই দুই সহদোরকে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালায়। কয়েকদিন র‌্যাব তাকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর তথ্য আসতে থাকে। যে তথ্যের জের ধরে র‌্যাবের হাতে অস্ত্র-ম্যাগজিন ও গুলিসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
আর এভাবেই অপরাধ জগতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তর করতে থাকে আরিফ-শাকিল।