যশোরে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেয়া ১৪ পুলিশ সদস্যকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে

যশোর : যশোরে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রে চাকরি নেয়া ১৪ জন পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও তারা মিথ্যা পরিচয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায়’ পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়েছেন। শুধু আটক নয়, বেতনসহ যোগদানের পর থেকে তারা সরকারের যে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তাও তাদের ফেরত দিতে হতে পারে। সরকারের সংশিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদপে নিবে। পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ওই ১৪ জন যশোরে বিভিন্ন সময় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির জন্য অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর মৌলিক প্রশিণ গ্রহণ শেষে তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদের দাখিলকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যাচাই বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ওই সকল মুক্তিযোদ্ধা সনদ সঠিক নয়। অর্থাৎ জাল। এরই জন্য গত ৩০ ডিসেম্বর যশোর পুলিশের আরওআই (রিজার্ভ অফিস ইনসপেক্টর) এম মশিউর রহমান উলিখিত ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় পৃথক ৪ টি মামলা দায়ের করেন। ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৫/৪২০/৩৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও বেআইনিভাবে পিতার নামে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র তৈরি করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ভর্তি হওয়ার অপরাধ আনা হয়েছে।
এদিকে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নেয়া ১৪ জনকে আটক করা হবে কি-না জানতে চাইলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আটকের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মামলা যখন হয়েছে তখন তো তারা আটক হবেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিষ্ময় প্রকাশ করে আরো বলেন, কত বড় সাহস যে তারা পুলিশের চাকরিতে জাল মুক্তিযোদ্ধ সনদ দাখিল করেছেন। অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এতোদিন তারা যে বেতন-রেশন সুবিধা নিয়েছেন তা তাদের ফেরত দিতে হবে। এছাড়া সরকার তাদের পেছনে আর যে আনুসাঙ্গিক অর্থ ব্যয় করেছে তাও ফেরত দিতে হবে। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় পদপে নেবে।
উল্লেখ্য, জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশ কনস্টেবল পদে যারা চাকরি করছেন তারা হচ্ছেন-যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের দিপন বিশ্বাসের ছেলে নব কুমার বিশ্বাস (খুলনা আরআরএফে কর্মরত), সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কাওছার আলীর মেয়ে সোনিয়া খাতুন (রংপুর পিটিসি), অভয়নগর উপজেলার নাউলী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে মিনাজ হোসেন (খুলনা পিটিসি), সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (খুলনা পিটিসি), বাঘারপাড়া উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে নাসির উদ্দিন (খুলনা পিটিসি), সদর উপজেলার নরসিংহকাঠি গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে দেবাশীষ বিশ্বাস, ঘোপ ছাতিয়ানতলা গ্রামের সাইফুর রহমানের ছেলে রানা হাসান (ঢাকার এন্টিটেরোরিজম ইউনিট), চৌগাছা উপজেলারজগন্নাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ), সদর উপজেলার সুড়া গ্রামের সাধন সিংহের ছেলে বিপদো সিংহ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), নরসিংহকাঠি গ্রামের অজিত বিশ্বাসের ছেলে অমিত কুমার বিশ্বাস (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), আন্দোলপোতা গ্রামের বাশারত হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান (নড়াইল পুলিশ), সুড়া গ্রামের কুমারেশ সিংহের ছেলে সুজল সিংহ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালি গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে বাপ্পি মাহমুদ (ঝিনাইদহ পুলিশ) এবং চৌগাছার কোটালিপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে আলিম উদ্দিন (ঝিনাইদহ পুলিশ)।