যশোরের বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জেল হাজতে

যশোর : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (সাইবার ট্রাইব্যুনাল) একটি মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য (মেম্বর)। মামলাটি করেছেন নড়াইল সদর থানার এএসআই কামাল হোসেন।
এদিকে, চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের তথ্য বের হতে শুরু হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার বাদী নড়াইল সদর থানার এএসআই কামাল হোসেন জানান, গত বছরের ১৯ অক্টোবর নড়াইল সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও টেলিযোগাযোগ আইনে তিনি নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আটককৃত দু’জন আসামি বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নং বাসুয়ারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে একই মামলায় চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারকে ৭ নং আসামি করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান আবু সাঈদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শ্রমজীবী অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত সহজ সরল মানুষকে বিভিন্ন লোভ-লালসা ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নামে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশন করে নেন। ওই সব সিমকার্ড দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধজনক কার্যক্রমে ব্যবহার করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই তাকে মামলার আসামি করা হয়।
যশোরের বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘লোক মুখে শুনেছি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার জেল হাজতে আছে। তবে, কোনো তথ্য প্রমাণ আমার কাছে নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘গেল বছর বাঘারপাড়া থানায় চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা হয়েছিল। দু’মাস আগে সেই মামলার চার্জশিট হয়েছে। চার্জশিটে এই চেয়ারম্যানের নাম আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই চেয়ারম্যানের নামে আরও বেশ কিছু মামলাও রয়েছে।’
এদিকে, বাসুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর সাদেকুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম জানান, সাইবার ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ১২ নভেম্বর চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। গত ২৯ জানুয়ারি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার পুনরায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তারা (ইউপি সদস্য)।
এদিকে, ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার একজন দুর্বৃত্ত। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে গত বছর (২০১৯) তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে।
ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প, বার্ষিক উন্নয়ন ও রাজস্ব উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না করে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করে আসছেন। এমনিভাবে ট্যাক্স, হাট-বাজার ইজারার টাকা-পয়সার কোনো হিসেব পরিষদের সদস্যদের জানান না। ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে তিনি সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিবাদ করলে তিনি গালিগালাজসহ হুমকি ধামকি দেন।
২০১৮ সালে মে মাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরের ও নির্যাতনের অভিযোগে বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের ভুঁইয়া চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।