সিন্ডিকেটের হুতা শাহিন কবির ও তার বাহিনী সম্পর্কে খোঁজ-খবর চালাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

যশোর : যশোরের বহুল আলোচিত গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের হুতা শাহিন কবির ও তার চোর সিন্ডিকেট নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য ধরা পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরের বকচর এলাকায় প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছে। আর এতে করে র‌্যাব পেয়ে গেছে চার চোরসহ একটি চোরাই ট্রাক। ফলে যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারে বাহিনী প্রধান।
মুড়লী এলাকার একটি সূত্র জানায়, ২০১৩-২০১৪ সালে সারকার বিরোধী আন্দোলনের সময় যে বকচর, মুড়লী, রাজারহাট, পুরাতন-নতুন বাস টার্মিনাল, চাঁচড়া এলাকায় যে সব নাশকতা, বোমাবাজী, ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে তার মূলে ছিল শাহীন কবীর।
এদিকে শাহীন কবীর যশোর মিনিবাস-বাস মালিক সমিতির সদস্য পদ ফিরে পেতে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করতে প্রস্তুত হয়ে গেছেন। ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সদস্য পদ ফিরে পাচ্ছেন এমন খবর মালিক সমিতির সদস্যদের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন শাহীন।
তবে এ খবর সত্য নয় বলে দাবি করেছেন যশোর মিনিবাস-বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলী আকবার। তিনি বলেন, খবরটি সঠিক নয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসিম কু-ু দেশের বাইরে রয়েছেন। আর শাহীন কবীর কখনো যশোর মিনিবাস-বাস মালিক সমিতির সদস্য পদ ফিরে পাবে না। তার চরিত্র আমাদের কাছে এখন পরিস্কার। আমরা কোন চোরকে সদস্য পদ দিতে পারি না। কোন চোরের এ সমিতিতে স্থান হবে না। এ সমিতির একটি সুনাম রয়েছে, এ সুনাম কেউ ক্ষুন্ন করবে না।
সূত্র জানায়, ৮ মার্চ শহরের শংকরপুর বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে র‌্যাব চার জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো বকচর হুশতলা এলাকার আবু বক্কারের ছেলে ইব্রাহিম, সদর উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার, খোকা মিয়ার ছেলে নাজমুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান মিন্টুর ছেলে শরিফুল ইসলাম। র‌্যাব তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই ট্রাকসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাপাতি জব্দ করা হয়।
এ ব্যপারে র‌্যাবের এএসপি সোহেল পারভেজ জানান, আমরা চারজনকে গ্রেফতার করেছি। এদের সাথে যারা আছে কিম্বা সিন্ডিকেটের মূল হুতাকে আমরা গ্রেফতার করে আইনে সোপার্দ করবো।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের এক সদস্য চোরাই ট্রাকসহ গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার শহিদুজ্জামান ওরফে কবীর। সে জেলার শার্শা উপজেলার কাজীর বেড় গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর কবীর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে সে ট্রাক চুরি করে আসছিল। সে ট্রাক চুরি করে এনে বিভিন্ন সময় যশোর শহরের বকচর এলাকায় একটি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে। এই সিন্ডিকেট চোরাই গাড়ী ভেঙে যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেয়। এ কাজে তার সহযোগিতায় বকচর এলাকায় তার কয়েক সহযোগি রয়েছে। ডিবি পুলিশ তাদের ধরতে খোঁজ-খবর শুরু করেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে একটি রাজনৈতিক সম্পর্কও আছে। যে কারণে সিন্ডিকেটটি ধরে মূল উৎপাটন করা হবে।
বকচর এলাকার একটি সূত্রে জানা গেছে, কবীর আটক হওয়ার পর চোর সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য গাঁ ঢাকা দিয়েছে। তবে গডফাদার এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি যশোরের গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের হুতা শাহীন কবীর সম্পর্কে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। গাড়ী চুরি, চোরাই গাড়ী উদ্ধার, চোর গ্রেফতার এবং চোর সিন্ডিকেটের হুতা সম্পর্কে শাহীন কবীরকে নিয়ে মাঠে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কয়েকটি বাহিনী। যশোরাঞ্চলে গাড়ী চুরি শুরু হয় ৯৫ সালের দিকে। সে সময় গাড়ি চুরির জন্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলো শাহীন কবীর। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি চুরি করে এনে তার গ্যারেজে ভাংতে শুরু করে। চুরি করা গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে থাকে পেয়ে যায় আলাউদ্দিনের চেরাগ। গাড়ি চুরির অপরাধে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে। থানায় হয়েছে মামলা। কিন্তু টাকার জোরে সব সময় পার পেয়ে গেছে এই চোর সিন্ডিকেটের প্রধান শাহিন কবির। চুরি জায়েজ করতে গড়ে তোলেন যশোর অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বনে যান শাহিন কবির। এই সমিতিকে ব্যবহার করে শাহিন কবির নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে দিনের পর দিন। তার অত্যাচারে সমিতির সদস্যরা আজ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জোরপূর্বক সমিতির পদটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে শাহিন কবির। সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গাড়ি চুরি করে সেই গাড়ি নতুন করে তৈরি করে ছেড়েছেন বিভিন্ন রুটে। এতে হয়েছেন পরিবহন মালিক। অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির পদ তার খায়েশ পূরণ না হওয়ায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যশোর বাস মালিক সমিতির সদস্য হওয়ার। মালিক সমিতির নেতাদের ম্যানেজ করে পেয়ে যান সদস্য পদ। সমিতির সদস্য পদ পেয়েই খ্যান্ত হননি শাহিন কবির। নেতাও হয়েছেন। নেতা হয়েই পরিবহন শ্রমিকদের ওপর শুরু করেছেন জুলুম নির্যাতন। তার কারণে অনেক শ্রমিকের রুটি-রুজি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সমিতির সভাপতি বাবুকে মদ্যপ পান করিয়ে হত্যা করার অভিযোগ সমিতির সদস্যদের। এরপর সহ-সভাপতি বাবুল হোসেন বাবুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। কিন্তু বাবুও শাহিন কবিরের অত্যাচারে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
গাড়ী চোরাই গাড়ী উদ্ধার ও চোর সিন্ডিকেট সম্পর্কে যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ বলেন, বকচর এলাকায় কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। কয়েকটি চোরাই গাড়ী ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি মামলা ও অভিযোগের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একটি সংগঠন এর সাথে জড়িত আছে। ওই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ওই সংগঠনটি একটি অবৈধ সংগঠন। ওই সংগঠনের আড়ালে অনেক অবৈধ কর্মকা- হয়। সংগঠনের কয়েকজন সভাপতি পদত্যাগও করেছে সম্পাদকের অনৈতিক কাজের কারণে। আমরা তাকে যে কোন সময় গ্রেফতার করতে পারি।
তবে শাহীন কবীরের বিরুদ্ধে ওঠা এ সকল অভিযোগে সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করে আসছেন।