বাজেট ঘোষণার চার মাস আগেই প্রতি শলকা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে হার মানিয়ে মনোপলি ব্যবসা করছে যশোরের মেসার্স আজিজুর রহমান

যশোর : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মত যশোরে শোষণ শুরু করেছে মেসার্স আজিজুর রহমান। ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানি ডিলার শিপ নিয়ে মেসার্স আজিজুর রহমান এর মালিক আব্দুল আজিজ এ শোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, যশোরের বাজারে সিগারেটের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তিনি একচ্ছত্রভাবে মনোপলি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজেট ঘোষণা এখনও প্রায় চার মাস থাকলেও তিনি সকল প্রকার সিগারেটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যা সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মেসার্স আজিজুর রহমান অতি মুনাফার লোভে সিগারেটের বাজারকে অস্তিতিশীল করে তুলেছেন। বাজারের চাহিদার তুলনায় সকল প্রকার সিগারেট প্রতিশলকা এক টাকা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া প্যাকেট প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরকারের ভোক্তা অধিকার আইন বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানির ডিলাররা চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ সিগারেট সরবরাহ করছে। এতে করে খুচরা বাজারে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরা প্যাকেট প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারণে খুচরা বাজারে সিগারেটের দাম বেড়ে গেছে।
নাম প্রকাশ কেন করা যাবে না এমন প্রশ্ন করা হলে ব্যবসায়ীরা বলেন, নাম প্রকাশ করলে আমাদের আর সিগারেট দেবে না। ক্রেতারা এসে ফিরে যাবে। এতে ব্যবসার ক্ষতি হবে।
অভিযোগ রয়েছে, যশোরের পরিবেশক ও হাতে গোনা কয়েকজন পাইকারী ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষকে জিন্মি করে প্রতি বছর বাজেটের আগে প্রশাসনের চোখের সামনে এই অতিরিক্ত সিগারেট বিক্রি করে থাকে।
যশোরের বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, বেনসন প্রতি শলকা ১৪ টাকা। ছোট প্যাকেট পাইকারী দোকানে ১৫০ টাকা, খুচরা দোকানে ১৬০ টাকা। বড় বেনসন ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। গোল্ডলিফ দুই শলকা ২১ টাকা, এক শলকা ১১টাকা। ছোট প্যাকেট ১২০ টাকা, বড় প্যাকেট ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। ডার্বি প্রতি শলকা ৫ টাকা। প্যাকেট ৪০ থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। রয়েল সিগারেট বিক্রি হচ্ছে প্রতি শলকা ৬ থেকে ৭ টাকা। আর এভাবেই প্রতিটি সিগারেটের দাম বড়ানো হয়েছে যশোরের বাজারে।
এদিকে, ভুক্তভোগীরা দাম বৃদ্ধির কারসাজির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে মেসার্স আজিজুর রহমান এর জেনালে ম্যানেজার মুজিবুর রহমানের বলেন, বাজারে কোন সিগারেটের ঘাটতি নেই। কোন সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়নি। আগে যে দামে সিগারেট বিক্রি হতো এখনও সেই দামে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বলে জানান।
খুচরা বাজারে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য যেতে বলা হলে তিনি তাতে রাজি হননি।
সিগারেটের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেসার্স আজিজুর রহমান এর মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, সিগারেটের দাম বৃদ্ধি হয়েছে এটা আমি শুনেছি। আমরা কোন সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করেনি। আপনারা বাজারে খোঁজ নিয়ে যা পেয়েছেন তা লিখে দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, (বৃহস্পতিবার) আমি নিজে মার্কেটে খোঁজ নিতে বের হবো।