যশোরে সাবু হত্যার রহস্য বের হতে শুরু করেছে

jessore map

jessore mapযশোর : যশোরের পরিবহন ড্রাইভার শাহবুদ্দিন সাবু হত্যার রহস্য উন্মেচিত হতে শুরু হয়েছে। যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকা- ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে। এই হত্যাকা-ের ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি। এদিকে, হত্যাকা-ের কেন্দ্র করে যশোর পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শী সাদ্দাম হোসেন খোকন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কয়েকজন শ্রমিকসহ শাহবুদ্দিন সাবু যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের সদস্য পদে প্রার্থী শাহিদুজ্জামান শহিদের হরিণ প্রতীকের জন্য প্রচারণায় যান বেনাপোলে। সেসময় সেখানে যান শ্রমিক মোস্ত, মোন্তাজ, ফারুক, রবিউল, মুন্না, রফিক, রবি, টিপু, শহিদ, সোহাগ, কামাল, খোকন ও শাহবুদ্দিন সাবু। এরা সকলে একটি মাইক্রোবাসে চড়ে বেনাপোলে যান। এছাড়া আলিম ও অপু নামে আরও দুজন মোটর সাইকেল যান। এরমধ্যে রফিক, শাহবুদ্দিন সাবু, টিপু, রবি এরা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সেলিম রেজা মিঠুর ডাল রেঞ্জ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। আর অন্যরা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোর্তজা হোসেনের ফুটবল প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। বেনাপোল চেকপোস্টে ডাল রেঞ্জ প্রতীকের পক্ষে শাহবুদ্দিন সাবু ভোট চান। ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাবুর সাথে ফারুকের তর্কাতর্কি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সকলে যশোরে ফিরে আসেন। বিষয়টি মোটর সাইকেলে থাকা আলিমকে জানায় অন্যরা। যশোরে এসে আলিম শ্রমিকদের নয় লিটার মদ কিনে দেয়। মদ পান করার পর হত্যার সাবুকে হত্যার পরিকল্পনার করে ফারুক, মোস্ত, আলিম ও অপু। এরা সকলে যশোর মাড়–য়া মন্দিরের সামনে মদপট্টিতে বসে মদ পান করে। মদ পান করে চৌরাস্তায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর সকলে যশোর নতুন বাস টার্মিনালে চলে যান। সেখানে আবারও আলিম আরও চার লিটার মদ কিনে দেয়। মদ পান করার পর টার্মিনালে থাকা বাস (খুলনা মেট্টো জ ০৪-০০৮১) সাবুকে নিয়ে জোর পূর্বক ওঠায়। পরিবহনে সাবুকে নিয়ে বাসে ওঠিয়ে হাত-পা বেধে ফেলে। এরপর আমিনুর বুকের উপর ওঠে চোখের মধ্যে স্কুপ ড্রাইভার ঠেলে দেয়। অপু হুইল রেঞ্জ দিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। মোস্ত গলার ওপর পা দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে দেয়। রবিউল চা পাতির উল্টোপাশ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। মুন্না অপুর কাছ থেকে হুইল রেঞ্জ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে সাবু মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাতকরা টার্মিনালে থাকা ফারুকের কাভার্ড ভ্যানে করে লাশ নিয়ে যায়। হত্যার পর ঘাতক রবিউল, আলিম ও অপু সাবুর গাড়ির সুপারভাইজার খোকনকে হুমকি দিয়ে বলে, এ কথা কাউকে জানালে সাবুর মত অবস্থা তোরও হবে। বৃহস্পতিবার সকালে মুড়লি রেল লাইনের পাশ থেকে সাবুর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহবুদ্দিন সাবু সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের হাসান মোল্যার ছেলে।
হত্যাকা-ের ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী সেলিম রেজা মিঠু বলেন, ‘সাবুকে আমি চাকরি দিই। আমি সাবু হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারসহ আইনগত দৃষ্টিান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর যাতে কোন শ্রমিক এ রকম ভাবে প্রাণ না হারায়। সাবুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইলো।’