যশোরে অবাদে গাভীন, রুগ্ন ও গাভী গরু জবাই করে বিক্রি

dav

যশোর : যশোরে গাভী গরু, বকনা, গাভীন ও রুগ্ন গরু জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এ ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন রয়েছে নিশ্চুপ। যশোর রেল বাজারে আলমগীর কসাই সাত মাসের একটি গাভীন গরু জবাই করে বিক্রি করেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক তুল-কালাম কান্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করলে সত্যতা পেয়েছে।
এদিকে, আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে রাতের আধারে রুগ্ন গরু জবাই করায় তোলপাড় শুরু হয়। রমজানের এই সময়ে রুগ্ন ও গাভীন গরু জবাই করে বিক্রি করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে তপসীডাঙ্গা বাদল মিয়া তার একটি রুগ্ন গভী গরু বিক্রি করে। তপসীডাঙ্গা দাসপাড়ার রাখাল দাসের মাধ্যমে দেলোয়ার ব্যাপারীর সহযোগিতায় রেলবাজারের কসাই আলমগীর একটি সাত মাসের গাভীন গরু কেনেন।
তবে রাখাল দাস ও দেলোয়ার গরু বিক্রির অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
তারা জানান, তারা কোন গরু বিক্রি করেননি।
শুক্রবার সকালে ওই গরুটি জবাই করে বিক্রি করে কসাই আলমগীর। এ ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপস্থিত হয় সাংবাদিকরা। এরপর সাংবাদিকরা তপসীডাঙ্গায় বাদলের বাড়ি যায়। সেখান থেকে জানতে পারে তার সাত মাসের অন্ত:স্বত্তা গাভী গরুটি মণিরামপুরের একজনের কাছে বিক্রি করেছেন।
বাদল মিয়া বলেন, তার গরুর একপি পা ভেঙ্গে গিয়েছিল। গরুটি সাত মাসের অন্ত:স্বত্তা ছিল। গরুটির অনুমানিক মূল্য ছিল ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু পা ভাঙ্গা এবং অন্ত:স্বত্তার কারণে গরুটি তিনি মণিরামপুরের একজনের কাছে ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করে দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে গভীর রাতে কসাই আলমগীরসহ তার লোকজন বিভিন্ন স্থানে রুগ্ন ও গাভী গরু জবাই করে বিক্রি করে আসছে। আলমগীর ও তার লোকজনের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন গাভী কিম্বা রুগ্ন গরু জবাই করি না। আমি আস্ত গরু কিনি না। আমি মাংস কিনে এনে বিক্রি করি।
সূত্র জানায়, গরু জবাইয়ের আগে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কসাই আলমগীর কোন নিয়মই মানেন না। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তার ওপর চড়াও হয় আলমগীর। ফলে মানসম্মানের ভয়ে কেউ কোন কথা বলেন না।
যশোর জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শিশির কান্তি পাল বলেন, বিষয়টি পৌর সভার মধ্যে হওয়ায় পৌরসভার একজন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আছেন। তিনিই দেখভাল করেন পৌর এলাকার বিষয়টি।
তবে এ বিষয়ে জানতে যশোর পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল ওয়াহেদ পৌরসভার কসাই খানা না থাকার কারণে সব দেখভাল করা সম্ভব হয় না। যে জন্য এর দেখভাল করার জন্য করা কথা বাজার ইজারাদারকে।