ইউএনও’র আট মাসের মেয়েসহ করোনায় আক্রান্ত যারা

jessore map

যশোর : আজ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে যে ১০৮ নমুনা পজেটিভ বলে শনাক্ত করে ফলাফল পাঠানো হয়, তার মধ্যে যশোরের ৩৭, মাগুরার ২৩, সাতক্ষীরার ৩০ এবং বাগেরহাটের ১৮টি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, যশোরে যে ৩৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩২ জন রয়েছেন। এর মধ্যে আবার শহরের ১৭ জন। আক্রান্ত অন্যদের মধ্যে শার্শা উপজেলার তিনজন এবং বাকি দুইজন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার হাইওয়ে পুলিশের সদস্য।
আক্রান্ত বলে শনাক্তদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের আট মাস বয়সী মেয়েও রয়েছে। মেয়েটির নাম নায়েশিয়া। দুই দিন আগে তার মা সৈয়দা তৌহিদা ইসলাম নিশি, ইউএনও’র ভাইয়ের ছয় বছর বয়সী মেয়ে পড়শী এবং একজন গৃহকর্মী আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছিলেন।
রাতে ইউএনও মো. কামরুজ্জামান সুবর্ণভূমিকে জানান, আজ তিনি নিজের শরীরের নমুনাও দিয়েছেন।
মেয়ে নায়েশিয়া প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘ছোট মানুষ তো! সমস্যার কথা বলতে পারছে না। তবে উসখুশ করছে। অস্থির। আপনারা দোয়া করবেন।’
করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হওয়া অন্যরা হলেন, যশোর সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত রঞ্জু (২৮) ও মো. আলমগীর হোসেন (৫০), সাহেবপল্লীর মো. মুজিবুর রহমান (৬০), মুকুন্দপুরের আলী হোসেন সরদার (৭৫), শহরের চাঁচড়ার মো. শহিদুজ্জামান (৪০), জেনারেল হাসপাতালের নাসরিন সুলতানা (৩৯), ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের শাহনাজ পারভিন (৫০), আফিফা (১৬) ও শাহিনা (৩৮), বেজপাড়ার আকবর হোসেন (৫৮), সুদীপ্ত ও তনুশ্রী (৩৫), খড়কির রেহনুমা (১৯) ও মুজিবুর (৫০), কেন্দ্রীয় কারাগারের সদর-উজ জামান (৫০) ও মুন্না (২৪), পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রেজাউল (৫৩), রূপদিয়ার কামরুল (৪৮), কারবালার মোকসেদা (৫০) ও মোজাম্মেল (৭৫)।
পরিচয় পাওয়া যায়নি সদর উপজেলার এমন ব্যক্তিরা হলেন, পলাশ মিয়া (২৬), আশিকুর (৫৫), মেহেদি (৩০), মাহফুজা (৬৩), জাহানারা খাতুন (৪৫), হাসনাহেনা (৩৬), আসাদুর (৩০), আব্দুল মান্নান (৪৮), রুনা (৩০), জুলফিকার (৫২) এবং সাহিদুর (৫২)।
শার্শা উপজেলায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের নাম আসাদ (৪৫), মো. কামাল হোসেন (৩৮) এবং শাহজাহান আলী (৫৭)।
কালীগঞ্জের বারবাজার হাইওয়ে পুলিশে আক্রান্ত দুই সদস্য হলেন হরিদাস (৫৩) ও মাহফুজুর রহমান (৫০)।
এদিন মাগুরা জেলায় শনাক্তদের মধ্যে ১৭ জন সদর উপজেলার বাসিন্দা।তাদের মধ্যে ইসাখাদা হাজরাপুরের তিন পুরুষ ও এক মহিলা, নতুন বাজারের এক পুরুষ, শত্রুজিতপুরের দুই পুরুষ, কলেজপাড়ার এক মহিলা ও দুই পুরুষ, গোরিমারার এক মহিলা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক নারী, পুলিশ লাইনের দুই পুরুষ, আনসার কলোনির এক নারী, হাসপাতালপাড়ার এক পুরুষ এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের এক নারী।
আক্রান্ত হয়েছেন শালিখা উপজেলার সরখোলার এক পুরুষ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী।
শ্রীপুর উপজেলার রামনগরের এক মহিলা এবং ইউএফপিও অফিসের এক পুরুষ এবং মোহাম্মদপুর উপজেলার বেথুলিয়া ও ডাঙ্গাপাড়ার দুই পুরুষও করোনা বহন করছেন।
সাতক্ষীরা জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার আছেন ছয়জন। এর মধ্যে শ্যামনগর থানার এক পুরুষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসের নেসার আলী (৫৫), বাধঘাটার এক পুরুষ, ইসলামপুরের এক পুরুষ ও এক মহিলা এবং পত্রখোলার এক পুরুষ রয়েছেন।
জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে বাজারগ্রামের এক পুরুষ, তারাইলের এক মহিলা, কুশুলিয়ার এক পুরুষ, ওয়াপদা ভারাশিমলার এক পুরুষ, খামারপাড়ার এক পুরুষ, তারাইলের বয়রার এক পুরুষ, ইটাগাছার এক পুরুষ, পলাশপোলের এক পুরুষ ও এক মহিলা, সুলতানপুরের দুই পুরুষ এবং উত্তর কাটিয়ার এক পুরুষ রয়েছেন।
সদর উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে ঈশ্বরীপুরের এক পুরুষ, পলাশপোল এলাকার এক পুরুষ, পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের এক পুরুষ ও এক মহিলা, আট নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপোলের এক পুরুষ ও এক মহিলা, লাবসার এক পুরুষ এবং হাসপাতালের এক নারী।
কলারোয়া উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে কলারোয়া বাজারের এক মহিলা, গদখালি ও পাঁচনলের দুই পুরুষ রয়েছেন।
বাগেরহাট জেলার আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ফকিরহাট উপজেলার আটজন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বঙ্কিম মুখার্জি (৫৮) নামে একজন রয়েছেন।
সদর উপজেলার সাতজন। এর মধ্যে সিভিল সার্জন অফিসের হেমন্ত সরকার (৫৭) এবং বাগেরহাট সদর থানার পরিমলচন্দ্র রায় (৬০) নামে দুই চাকুরের নাম আছে।
জেলার কচুয়া উপজেলার দুইজন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শেখ মো. জাকারিয়া আছেন।
চিতলমারি উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন একজন।