নিজেকে সামলানোর টিপস নিন

ঢাকা : ঘন ঘন জিনিস কেনেন? মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্ধেক হয়ে যায় ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স? অফারে পাপোশের সঙ্গে চিনি পাবেন বলে আলাদা করে চিনি না কিনে পাপোশও কেনেন। তারপর মাসের ১৫ তারিখে পকেট গড়ের মাঠ হয়ে যায়। সোজা কথায় আপনার কেনাকাটায় অতিরিক্ত নেশা, কিন্তু স্বীকার করতে অনীহা। এই সমস্যা থেকে বাঁচার কিছু রাস্তা আছে।

কেনাকাটার স্বভাব থেকে মুক্তি পেতে ক’টি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখুন

আপনার প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা বানিয়ে কেনাকাটা করতে যান। মাসে দু’বারের বেশী শপিং মল যাবেন না। চেষ্টা করুন মাসে একবার যেতে। কেনাকাটা করার আগে আপনার কী কী প্রয়োজন তার তালিকা বানিয়ে নিয়ে যান। সেই তালিকার বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করবেন না।
মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর মাসিক বাজেট করে নিন। সেই বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করুন। বাজেট পেরোতে দেবেন না। কারণ বাজেট তৈরির সময় সঞ্চয় মাথায় রেখে বাজেট করেছিলেন। বাজেটের বাইরে খরচ করলে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাবে।
আজকাল বেশির ভাগ কেনাকাটাই হয় অনলাইন করা হয়, নয়তো দোকানে গিয়ে ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডে পে করা হয়। নোট টাকা খরচ হচ্ছে না বলে অনেক সময় অনলাইন খরচাপাতির দিকে খেয়াল রাখতে না পেরে লাগামছাড়া খরচ হয়ে যায় আমাদের। সপ্তাহে দু’দিন অন্তর নেট ব্যাংকিং এ ট্রাঞ্জাকশনের দিকে খেয়াল করুন।
আজকাল রাস্তাঘাটে, মোবাইলে, সোশাল মিডিয়ায় যত্রতত্র নানা পণ্য সামগ্রীর বিজ্ঞাপন দেখতে পান আপনি। আর সে সব দেখে আপনার চাহিদা তৈরি হয়। বাজার কিন্তু আমাদের মধ্যে এই চাহিদাটাই তৈরি করে দিতে চায়। এবং আপনার সত্যিকারের প্রয়োজনের তুলনায় চাহিদার তালিকাটা ক্রমশ লম্বা হতে থাকে, হতেই থাকে। তাই এই সর্বত্র বিরাজমান বিজ্ঞাপন থেকে সাবধান।
দুটো কিনলে পাঁচটা ফ্রি, এই ধরণের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পা দেবেন না। ধরুন দুটো হাত ঘড়ির সঙ্গে ৩টি বিদেশি পারফিউম পাওয়া যাচ্ছে বিনামূল্যে। এবার এই অফারটি আকর্ষণীয় লাগছে বলেই কিন্তু কিনতে যাবেন আপনি। অথচ আপনার কিন্তু ঘড়ি অথবা পারফিউম কোনটিরই প্রয়োজন নেই এই মুহূর্তে। অথচ শুধুমাত্র নিজেকে কেনাকাটা থেকে বিরত রাখতে না পেরে লোভে পড়েই কিনে নিলেন এক জোড়া ঘড়ি, সঙ্গে তিন তিনটা পারফিউমের সেট। এবার সেই ঘড়ির সঙ্গে মানানসই পোশাক কিনবেন। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতো। এরকম চলতেই থাকবে। একবার এই ফাঁদে পড়লে বের হওয়া খুব মুশকিল।