ভবদহ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড শার্শায় হাজার হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত

এ আলী, বেনাপোল : যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাম খেয়ালীপনায় ত্রুটিপূর্ণ স্লূইজ গেট নির্মাণের কারণে ভারতের ইছামতি নদীর জোয়ারের পানিতে শার্শার ৫ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানির নিচে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। চাষীরা দাবি করেন রুদ্রপুর ও খলশী খালে পাম্পসহ স্বয়ংক্রিয় গেট নির্মাণ করলে এর স্থায়ী সমাধান হবে এবং এ অঞ্চলের চাষীরা বারোমাস ঘরে ফসল তুলতে পারবে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে কর্মকর্তা স্বীকার করে বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর জেলার ৮ টি উপজেলার মধ্যে নিম্নাঞ্চল ভবদহ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্যান্য দিকে নজর কম দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ইছামতির জোয়ারের পানি শার্শার বিভিন্ন খাল দিয়ে প্রবেশ করে শার্শা ও ঝিকরগাছার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করছে। এসব অঞ্চলে ৩টি স্লুইজ গেট থাকলেও তার দায়িত্বে কেউ না থাকায় নেই কোন নজরদারী। শার্শা উপজেলার পুটখালী, গোগা, উলাশী, বাগআঁচড়া ও কায়বাসহ ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ইছামতির সাথে সংযুক্ত রুদ্রপুর ও খলসী খালে ত্রুটিপূর্ণ স্লুইজগেট নির্মাণের ফলে ভারতের ইছামতি নদীর পানিতে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে চাষীদের অভিযোগ। ইছামতির পানি ঠেকাতে রুদ্রপুর খালে দুটি ও খলশী খালে একটি স্লুইজগেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এসব স্লুইজগেট ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তা কোন কাজে আসছেনা। ফলে ঐ খাল দুটি দিয়েই ভারতের পানি ঢুকে শার্শার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, চলতি মৌসুমে ৫টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৩১ হেক্টর জমিতে ফসল লাগানো হয়েছে। এতে ভারতের উজানের পানিতে ২ হাজার ৯’শ ৭০ হেক্টর জমির ধানপাট তরিতরকারিসহ ফসল তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পুটখালী ইউনিয়নের ৪০০ হেক্টর জমির ফসল। কায়বার ৩৫০ হেক্টর, গোগার ২২৫ হেক্টর, বাগআঁচড়ার ২৫০ হেক্টর ও উলাশীতে ১২৫ হেক্টর জমির ফসল ভারতের উজানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া পানি এখনও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। তবে পানি আটকানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব, এতে কৃষিবিভাগের কোন হাত নেই।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মুখে শুনতে পাই ভারতের পানি রুদ্রপুর ও খলশী খাল দিয়ে ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। জানার সঙ্গেই মঙ্গলবার সকালে এসিল্যান্ড ও ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে পুটখালী ও বারোপোতার বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। এসময় পানির বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরণের ৪ টি জালপাটা অপসারণ করি এবং জালপাটা দিয়ে মাছ ধরায় ১ জনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছি। তিনি আরো বলেন ইছামতি নদীর পানির সমস্যাটা আন্তর্জাতিক ব্যাপার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইচ্ছা করলে এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান বলেন, আমি প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দূর্ভোগ লাঘব করতে পারব।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সমস্যাটি জানতে পেরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।