ঝিকরগাছার নাভারণে গলায় দড়ি দিয়ে হত্যা না আত্মহত্যা! প্রশ্ন জনমনে

ঝিকরগাছা : ঝিকরগাছার নাভারণ পুরাতন বাজারের ভাড়া বাসায় আলী হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে এবং সে বেনাপোল ঘিবা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। আসলে এটা আত্মহত্যা, না কেউ হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে আলী হোসেন তার স্ত্রী শাহিদা খাতুন ও পাঁচ বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে নাভারণ পুরাতন বাজারের আকরব আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের দোতলায় ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন আলী হোসেন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে জানতে পেরে বেনাপোলে নাসির জুয়েলার্সের মালিক তার দুলাভাই নাসির ও বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা লাশটি নামিয়ে দেখে তার শরীর ঠান্ডা ও অসাড়। এ ঘটনার পর হাফিজুর রহমান ও নাসির গং মিলে গোপনে লাশটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রতিবেশী লোকজন এসময় জানতে পেয়ে গেটে ভিড় জমালে স্থানীয়দের সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। পুলিশকে না জানিয়ে এভাবে লাশটি অন্যত্র নেওয়ার জন্য ৪ বার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম ও এসআই শাহেদুজ্জামান লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেমের জন্য যশোর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
খবর পেয়ে দেখতে আসা নিজ গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, অতি অল্পসময়ে এই আলী হোসেন ঘিবা মাঠে অনেক জায়গা জমির মালিক বনে গেছেন। তবে অনেকেরই ধারণা সে সোনা পাচারের সাথে জড়িত ছিল, আবার তার স্ত্রীর নিরবতা দেখে সোনা কেন্দ্রিক পরকিয়া ঘটনার জেরে এটা হত্যাকান্ডও হতে পারে। এব্যাপারে বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান অনেক কিছু জানে বলেও জানান অনেকেই।
এব্যাপারে বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ঝিকরগাছা থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।