জনপ্রিয় চার তারকার একই দিনে জন্মদিন

ঢাকা:জনপ্রিয় চার তারকার একই দিনে জন্মদিন । তারা হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, মোশাররফ করিম, কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী এবং অভিনেত্রী রুমানা রশিদ ঈশিতা। প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিভা গুণে শোবিজের উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত। সোনালীনিউজের পক্ষ থেকে এই চার তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

ফজলুর রহমান বাবু
ফজলুর রহমান বাবু একাধারে অভিনেতা ও গায়ক হিসেবে সুপরিচিত। তবে নিজেকে তিনি অভিনেতা পরিচয় দিতেই বেশি স্বস্তিবোধ করেন। তিনি এ পর্যন্ত দুই শতাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়াও বেশ কিছু টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। চলতি সপ্তাহে তার অভিনীত ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। সেখানে দাপুটে এই অভিনেতার অভিনয় কাঁদিয়েছে দর্শকদের।

ফজলুর রহমান বাবুর জন্মস্থান ফরিদপুর জেলায় ১৯৬০ সালে। ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় তিনি ফরিদপুরেই কাটিয়েছেন। ১৯৭৮ সালে ফরিদপুরের ‘টাউন থিয়েটার’ দিয়ে তার অভিনয়ের সঙ্গে সখ্যতা। পরবর্তিতে ‘বৈশাখী নাট্য গোষ্ঠী’তে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। ওই একই বছরে বাবু প্রথমবারের মত ‘ন্যাশনাল ড্রামা ফেস্টিভাল’- এ অভিনয় করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি অগ্রণী ব্যাংকে চাকরি নেন এবং ঢাকায় বদলি হয়ে চলে আসেন।

ঢাকায় এসে তিনি ‘আরণ্যক’ নাট্যদলে যোগ দেন। এই থিয়েটারে তিনি বেশ কিছু মঞ্চ নাটক করে প্রশংসিত হন। যেমন- পালা, পাথর, ময়ূর সিংহাসন।

বাবু তার টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মৃত্যু ক্ষুধা (১৯৯১)’ নাটক দিয়ে, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- পাঞ্জাবীওয়ালা, ৫১ বর্তী, ৬৯, দৈনিক তোলপাড়, রঙের মানুষ, ঘরকুটুম, ব্যস্ত ডাক্তার, ঘটক পাখিভাই, হাটকুড়া প্রভৃতি।

ফজলুর রাহমান বাবুর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে দারুচিনি দ্বীপ, মনপুরা, বিহঙ্গ, স্বপ্ন ডানায়, বৃত্তের বাইরে, শঙ্খনাদ, মেড ইন বাংলাদেশ, অজ্ঞাতনামা, ঢাকা ড্রিমস ইত্যাদি। ২০০৪ সালে ফজলুর রাহমান বাবু ‘শঙ্খনাদ’ ছায়াছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত হন। এ ছাড়াও তিনি একাধিকবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ডায়মন্ড-আরটিভি স্টার পুরস্কার, পদ্ম পুরস্কার এবং বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কার পেয়েছেন।

মনপুরা ছবিতে একটি গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে বাবু তার আরো একটি প্রতিভার জানান দেন। তিনি তার প্রথম একক মিউজিক অ্যালবাম ‘ডুবাডুবি’ বের করেন ২০০৯ সালে। এছাড়াও ২০০৮ সালে ‘মনচোরা’ নামক একটি মিক্সড অ্যালবামে তিনি চারটি গান গেয়েছেন। ‘কৃষ্ণকুমারী’ তার অপর একটি মিক্সড অ্যালবাম।

মোশাররফ করিম
এদেশে দুর্দান্ত এক অভিনেতার নাম মোশাররফ করিম। তার অভিনয় হাসায়, কাঁদায়৷ জীবনবোধের গল্পের নাটকগুলোতে তিনি বার্তা নিয়েও হাজির হন দর্শকের জন্য। অনেকদিক ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও ২০০৮ থেকে জনপ্রিয়তার শুরু।

এরপর দর্শক প্রতিনিয়ত দেখেছেন ক্রমান্বয়ে পরিণত হওয়া মোশাররফ করিমকে। আজ এই অভিনেতার ৪৯তম জন্মদিন। জীবনের বিশেষ এ দিনে ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসায় বাসছেন তিনি।মোশাররফ করিমের পারিবারিক নাম কে এম মোশাররফ করিম। ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট ঢাকায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তার অভিনয়ের শুরু সেই স্কুল থিয়েটার থেকে। এসএসসি পাস করে ১৯৮৬ সালে ঢাকায় এসে নাম লিখিয়েছিলেন নাট্যকেন্দ্রে। সেখানেই পেয়েছিলেন তারিক আনাম খান, ঝুনা চৌধুরী, জাহিদ হাসান এবং তৌকীর আহমেদের মতো মানুষজনের সাহচর্য।

১৯৯৮ সালে আবুল হায়াতের ‘অতিথি’ নাটকে ছোট একটি চরিত্র দিয়ে তার টিভি যাত্রা শুরু। এরপর বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে৷ তবে এক দশকের স্ট্রাগল শেষে ২০০৮ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ক্যারাম’ নাটক তার ভাগ্য বদলে দেয়। রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন মোশাররফ করিম।

সালাউদ্দিন লাভলুর ধারাবাহিক ‘ভবের হাট’ নাটকে অভিনয় করে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পান। ‘পিক পকেট’, ‘লস প্রজেক্ট’ কিংবা তৌকির আহমেদের ‘দারুচিনি দ্বীপ’ থেকে শুরু করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ধারাবাহিক নাটক ‘৪২০’ তাকে সবার প্রিয় করে তুলে৷ এরপর থেকেই পথ চলছেন তিনি দেশের সেরা অভিনেতাদের একজন হয়ে।

ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক তিনি উপহার দিয়েছেন। ‘জয়যাত্রা’ সিনেমা যাত্রা করা মোশাররফ অভিনয় করেছেন ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘জালালের গল্প’ সিনেমাগুলোতে৷

সম্প্রতি কলকাতায় ব্রাত্য বসু পরিচালিত একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। সেটি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়।

ডলি সায়ন্তনী
ডলি সায়ন্তনীর জন্ম ২২ আগস্ট পাবনা জেলায়। তার শৈশব কেটেছে পাবনাতেই। পরিবারে ভাই বাদশা বুলবুল, বোন পলি সায়ন্তনীও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। মা মনোয়ারা বেগমও যুক্ত ছিলেন গানের সঙ্গে।

১৯৯০ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মিল্টন খন্দকারের কথা ও সুরে সেলেক্স-এর ব্যানারে বাজারে প্রথম ডলির একক অ্যালবাম ‘হে যুবক’ বাজারে আসে। মাসুদ পারভেজ প্রযোজিত ‘ঘেরাও’ ছবিতে তিনি প্রথম প্লে-ব্যাক করেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ছবিতে প্লে-ব্যাক করেছেন ডলি।

দ্বৈত গানে সবচেয়ে বেশি গেয়েছেন তিনি অ্যান্ড্রু কিশোরের সঙ্গে। ডলি সায়ন্তনীর শ্রোতাসমাদৃত অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘কালিয়া’, ‘নীরব রাতে’, ‘বিরহী প্রহর’, ‘সুখে থেকো’, ‘নিতাইগঞ্জে জমছে মেলা’, ‘বাংলাদেশের মেয়ে’। বর্তমানে ডলি সায়ন্তনী দেশ-বিদেশের স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত প্লেব্যাকও করছেন।

রুমানা রশিদ ঈশিতা
রুমানা রশিদ ঈশিতা। আজ ২২ আগস্ট তারও জন্মদিন। ১৯৮৬ সাল থেকে ঈশিতা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। নতুন কুঁড়ি টিভি অনুষ্ঠানে শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি প্রথম খ্যাতি লাভ করেন। এরপর তিনি অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার পুরো নাম রুমানা রশিদ ঈশিতা। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নৃত্য এবং গানে পারদর্শী।

ঈশিতার অভিনয়ে হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। বিটিভির নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ‘ফালানি’ চরিত্রে তার অসাধারণ অভিনয় এখনো দর্শক হৃদয়ে অটুট। ঈশিতার প্রথম অভিনীত নাটক ছিল ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় ও ফখরুল আবেদীনের পরিচালনায় ‘দু’জনে’। এই নাটকে তিনি আফজাল হোসেন ও শান্তা ইসলামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।

বড়বেলায় শহীদুল হক খানের ‘তিথি’ নাটকের তিথি চরিত্রের মধ্যদিয়ে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ঈশিতার। ‘নতুন কুঁড়ি’র সেই কুঁড়িটি আজ মস্ত বড় এক ফুলে পরিণত হয়েছে। ঈশিতা এখন পরিচালনাতেও নিজের মুন্সিয়ানা ফুটিয়ে তুলেছেন। তার প্রথম পরিচালিত নাটক ‘এক নিঝুম অরণ্যে’।

প্রকৌশলী আরিফ দৌলাকে বিয়ে করেন ঈশিতা। অভিনয়, নৃত্যশিল্পী, গায়িকা, লেখিকা- নানা গুণে গুণান্বিতা এই অভিনেত্রী। এছাড়া তিনি চাকরি করেন চ্যানেল আইয়ে। ‘টপ মডেল’, ‘ক্ষুদে গানরাজ’ আর ‘সেরা নাচিয়ে’- তিনটি রিয়ালিটি শোর প্ল্যানিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

এ পর্যন্ত ৭ টি গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে এবং ২টি বই প্রকাশিত হয়েছে ঈশিতার। বই দুইটি- স্বপ্ন ও স্বপ্নীল এবং নীরবে। এ ছাড়া ‘ভালোবাস, বাঁচো’ নামের একটি নাটক পরিচালনা করছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাটক: আপনাঘর, চক্রবলয়, দেখা, সাদাপাতায় কালো দাগ, দুজনে, তিথি, থাকা না থাকার মাঝখানে, কাগজের গল্প ইত্যাদি।