কুকুর রক্ষার দাবিতে রাজপথে জয়া

ঢাকা: রাজধানীর সাত মসজিদ রোডের ১০ নম্বর সড়ক! করোনার মধ্যেই মানুষের জটলা। আছে আদুরে কুকুরদের ভিড়। কেউ কোলে করে নিয়ে হাজির হয়েছেন প্রিয় পোষ্যদের।

আর সড়কের দেয়ালজুড়ে যে কর্ম চলছে তার পুরোটাজুড়েই রয়েছে কুকুর ও বেড়ালের ছবিতে আঁকা নানা বার্তা। যার একটি এমন, ‌‘ঢাকা শুধু মানুষের না, প্রাণী ও প্রকৃতিরও।’ আবার চোরের বয়ানে আরেকটি চিত্রকর্ম আছে এমন, ‌‘কুকুরের জ্বালায় ঠিক মতো চুরিও করতে পারি না।’

ঢাকার বুকে এমন ঘটনা দেখে চলতি পথে কেউ এসে ছবি তুলছেন, কেউবা অবাক চোখে দেখছেন। বুঝতে চাইছেন, আসলে এখানে কী হচ্ছে!

শনিবার বিকালের (২৯ আগস্ট) স্নিগ্ধ আলোয় দাঁড়িয়ে উত্তরটা দিলেন জয়া আহসান। কারণ তিনিও যে কুকুরপ্রেমী। আর ‘প্রাণবিক ঢাকা’ গড়ার আহ্বায়ক!

জয়া বলেন, মানুষের সবচেয়ে কাছের প্রাচীনতম এই বন্ধুটির (কুকুর) ওপর চরম নির্দয়তার প্রকাশ আমরা প্রায়ই দেখতে পাই। এই অসংবেদনশীলতা দূর হোক তা আমি মনেপ্রাণে চাই। একটি প্রাণবিক ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এই আয়োজন চলছে। যেখানে ঢাকার সকল সচেতন নাগরিক, পরিবেশবাদী ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা আসছেন। এসেছি আমিও।

মূলত পথকুকুর নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে পিপল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার (পিউ) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২৮ ও ২৯ আগস্ট ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে (১০ নম্বর সড়ক) দেয়ালচিত্র আঁকার আয়োজন হয়েছে। এখানে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী নওশাবাও।

তিনি বলেন, করোনার অলিখিত লকডাউনের মধ্যেই আমি আমার কুকুরকে হারিয়েছি। অসুস্থতার কারণে সে মারা যায়। পিপল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার লকডাউনের মধ্যেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আমি যখন শুনি তারা এমন একটি আয়োজন করছে তারা- বলেছি, আমার কোনও ইনভাইটেশন লাগবে না আমি চলে আসব। আমি নিজেও পেইন্টার। কিন্তু এখানে যারা কাজ করছেন, তাদের সামনে আঁকার সাহস পাইনি। সত্যি, আমাদের প্রাণবিক ঢাকা দরকার।