শার্শায় হ্যান্ডকাপসহ দু’মাদক ব্যবসায়ীর পলায়ন কর্মকর্তার গুলিসহ অস্ত্র খোয়া পরে উদ্ধার

এ আলী, বেনাপোল : যশোরের শার্শায় হ্যান্ডকাপসহ দু’মাদক ব্যবসায়ীর পলায়নের অভিযোগ উঠেছে। এসময় অভিযানে নামলে পুলিশ কর্মকর্তার গুলিসহ অস্ত্র পথের মধ্যে হারিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসিরা সহযোগিতা করে প্রায় পৌণে ১ ঘন্টা পরে ঐ দু’মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঐ হারিয়ে যাওয়া গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শার্শা উপজেলার ছোট নিজামপুর গ্রামে।

হ্যান্ডকাপসহ পলায়নকৃত দু’মাদক ব্যবসায়ী হল, উপজেলার বেদেপুকুর গ্রামের আনিছুর হোসেনের ছেলে খাইবার হোসেন (২০) ও দূর্গাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশা (২০)।

পুলিশ জানায়, ব্যাটারী চালিত ইঞ্জিনভ্যানে করে মাদক পাচারের গোপন খবর পেয়ে এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমান সঙ্গীয়ফোর্স নিয়ে ছোট নিজামপুর গ্রামস্থ খালেকের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার উপর অভিযান চালান। এসময় ব্যাটারী চালিত ইঞ্জিনভ্যানে আনা পুরাতন ব্যারেলে তল্লাশী চালিয়ে ৩টি বস্তা পাওয়া যায়। পরে বস্তা থেকে ৩৬৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। মাদকের ব্যবসা ও মাদক আনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ইঞ্জিনভ্যানে থাকা খাইবার ও আশাকে আটক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ব্যাটারী চালিত ইঞ্জিনভ্যানে আনা পুরাতন ব্যারেলে খাইবার ও আশা মাছ নিয়ে যাচ্ছে এমন ভান করে। এসময় বেরসিক গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমান, এএসআই মিরাজ ও তিনজন পুলিশ কনস্টবল তাদের চ্যালেঞ্জ করে দেখতে পায় ব্যারেলে মাছের পরিবর্তে ফেন্সিডিল। এসময় এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমান ব্যাটারী চালিত ইঞ্জিনভ্যানের উপর থাকার সুবাদে খাইবার ও আশাকে একত্রে এএসআই মিরাজ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে কনস্টবলের হেফাজতে রাখে। সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাপ পরহিত অবস্থায় খাইবার ও আশা পালিয়ে ছোট নিজামপুর গ্রামের রিয়াদের বাঁশ বাগানের ভিতর লুকিয়ে থাকে। এঘটনায় খাইবার ও আশাকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে পড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমানের সাথে থাকা গুলিসহ অস্ত্র পথের মধ্যে হারিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান, ৫/৬ এসআই-এএসআই ও কয়েকজন পুলিশ কনস্টবল ঘটনাস্থলে পৌছায়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসিরা সহযোগিতা করে প্রায় পৌণে ১ ঘন্টা পরে ঐ দু’মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এরমধ্যে এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমানের সাথে থাকা গুলিসহ অস্ত্র খুঁজে পান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন জনসম্মূখে ফেন্সিডিলের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য আশা করছিল, কিন্তু তারা তা না করে থানায় নিয়ে পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তবে সূত্র জানায়, স্থানীয় গ্রামবাসি খাইবার ও আশাকে ধরার পর তাদের নিকট থেকে জানতে পারে বস্তায় ৭০০ বোতল ফেন্সিডিল ছিল। শার্শা থানার অর্ন্তগত পুলিশের নিকট থেকে আগেও হ্যান্ডকাপসহ আসামী পলায়নের অভিযোগ রয়েছে।

গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মুহাম্মদ এজাজুর রহমান বলেন, আমি ভ্যানের উপর থাকা অবস্থায় আসামীরা হ্যান্ডকাপ পরহিত অবস্থায় দৌড়ে পালায়। ভ্যান থেকে লাফ দেওয়ার সময় অস্ত্র পড়ে ছিল। অস্ত্র হারিয়ে গেলে আমার চাকরী থাকে ? হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক না, যারা বলেছে তারা ভুল বলেছে। আমার ওসি স্যার ও সার্কেল স্যার উপস্থিত ছিলেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, অস্ত্র হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যেহেতু সাথে সাথে পেয়ে গেছে তাই আমাদের নলেজে আসে নাই। যদি হারায় তবে তার কাছে এটা কাম্য নয়। শুনছিলাম আসামীরা হ্যান্ডকাপসহ পালায় গেছিল, তবে আমরা যেয়ে পেয়েছি। কাজ করতে গেলে অনেক ভুল ত্রুটি হয়, যদি এখন আপনারা এটাকে নেগেটিভ ভাবে দেখেন তাহলে অনেক অফিসাররা এতে কাজের প্রতি আগ্রহ হারায়। কোনস্থান থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলে ধুম্রজাল তৈরী না হয় সে বিষয়ে আমরা নেক্সটে আরো সতর্ক থাকব।

নাভারণ “খ” সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, হ্যান্ডকাপ নিয়ে আসামীরা পালিয়েছিল পরে এলাকাবাসির সহযোগিতায় তাদের ধরা হয়। এজাজের অস্ত্র পড়ে গেছে বা হারায় গেছে এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে আসে নাই। আসামী ধরতে গেলে হয়ত তার অস্ত্র পড়ে যেতেও পারে, তবে সেসব কোন তথ্য আমাদের জানা নাই। এখানে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল থাকতে পারে, একজন পুলিশ সদস্য সে যখন তার অস্ত্র ড্রিল করবে, সাথে রাখবে তখন বেশি সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল। আসলে তার অস্ত্র পড়ে গেছে বা হারায় গেছে এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে আসে নাই। এ বিষয়টা আমি দেখব। ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত থেকে ওখানে একটি বস্তা খুলে গনণা করি, আর বাকী দু’বস্তা থানায় এনে গনণা করা হয়েছিল।