যশোর পৌর এলাকায় আইন অমান্য করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা

যশোর : আইন অমান্য করে যশোর পৌর এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। তোয়াক্কা করা হচ্ছে না কোন আইন। প্রতিবাদ করলে উল্টো হয়রাণির শিকার হতে হচ্ছে। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও পৌর কতৃপক্ষ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে চলেছে। যশোর পৌর সভায় অভিযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না।
আইন অমান্য করে বাড়ি নির্মানের বিরুদ্ধে ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা এ কে এম নাজিম উদ্দিন যশোর পৌর সভার মেয়র বরাবর একটি আবেদন করেছেন। তিনি বাড়ি নির্মাণ যথাযথ আইন প্রয়োগের জন্য বলেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, যশোর পৌর সভার চার নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন ১৩৩৫ ও ১৩৩৭ প্লট সংলগ্ন ১৩৩৬ নং প্লটের মালিক নিজের ক্ষমতা বলে হাইরাইজিং বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। বিল্ডিং নির্মাণের জন্য আইনের যে সব শর্ত মানা নিয়ম রয়েছে তার কোনটাই তিনি মানছেন না। প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি আব্দুর রহমান নামে এক প্রকৌশলী জমিটি কিনেছেন। জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৩৩৬ নং প্লটের চারপাশে বাড়ি রয়েছে। সেখানে যেভাবে হাইরাইজিং রিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে অন্যন্য বাড়িগুলো ধসে যাওয়াসহ বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
আর এই বাড়ি নির্মাণের দেখভাল করছেন (সাব ঠিকাদার) মামুন।
বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে ঠিকাদার মি. মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখানে আইন বিরোধী কোন কাজ হচ্ছে না। পৌর মেয়র আমাদের কাজের দেখভাল করছেন। তার নির্দেশে আমরা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, আমি আর্কিটেকচার। আমি সারা দেশে কাজ হয়। আমার ঢাকায় বড় বড় প্রজেক্ট রয়েছে।
কত তলা বিল্ডিং করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচতলার নির্মাণ কাজের প্লান পাশ করানো রয়েছে।
আবার তিনি বলেন, চার তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন দ্বিতীয় তলা করা হবে। বাকী কাজ পরে করা হবে।
নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিল্ডিং নির্মাণের পৌর সভার প্লন দেখতে চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে। দেশে বির্ল্ডিং তৈরিতে ইমারত নির্মাণ নামে একটি আইন রয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার ১৯৯৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করে। এই বিধিমালায় ইমারত নির্মাণের অনুমোদন, জলাধার খননের অনুুমোদন ও পাহাড় কাটার অনুমোদনের আবেদন, অনুমোদন ফি, ইমারত নির্মাণের নকশা, ইমারত প্রণয়নকারীর যোগ্যতা, ইমারত নির্মাণের অনুমোদনের জন্য করা আবেদনের নিষ্পত্তি ইত্যাদির প্রক্রিয়া বলে দেওয়া হয়েছে। আবার কিভাবে নির্মাণ করতে হবে তারও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘোষপাড়ায় নতুন বিল্ডিং এর মালিক কোন কিছুর তোয়ক্কা না করে বাড়ি নির্মাণ করে চলেছেন।
এ বিষয়ে জানতে যশোর পৌর সভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের বাইরে কেউ কিছু করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওদের চিনি না, আমার ব্যবহার করে অপকর্ম করলে তার কোন ছাড় নেই। তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।’