কেশবপুরে ইউনিয়ন পরিষদ উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল

  • কেশবপুর প্রতিনিধি: – যশোর কেশবপুরে উপজেলার ৭নং পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধনের এক বছর পার হওয়ার আগেই দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় তলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল এবং সিঁড়ি ঘর থেকে বৃষ্টি হলেই পানিপড়তে দেখা গেছে। দৃশ্যত কোনো কারণ ছাড়াই ভবনে ফাটল দেখা দেওয়াই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে অনিয়ম করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে অনিয়ম আড়াল ও ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা অসাধু ব্যক্তি দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে কখন না ভেঙে মাথায় পড়ে।

২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভবনটির শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক এমপি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্যাকেজ নম্বর W৫৫৭ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় (WCCP-2)ভবনটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স পারিজাত এন্টারপ্রাইজ।

প্রকল্পটির চুক্তি মূল্য ১,১২,৩৫,৯৫১.১৫ টাকা ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরুর তারিখ ২০.০৫.২০১৮ খ্রি.এবং কাজ সমাপ্তির তারিখ ১৫.০২.২০১৯খ্রি.। কোটি টাকারও অধিক মূল্যের ভবনটি উদ্বোধনের বছর পার না হতেই বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়ায় এলাকাবাসী বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কার্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সীমাহীন উদাসীনতা ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে ভবনটির নির্মাণকাজ যেনতেনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভয়ের মধ্যে দাপ্তরিক কাজ করতে হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কী করে দাপ্তরিক কাজ করা হচ্ছে? এসব দেখার দায়িত্ব কার, তারা তাহলে কী করছে? ভবনটি সংস্কারের বা বিকল্প ব্যবস্থার কোনো উদ্যোগ আছে কি ? ভবন ধসে যদি হতাহতের ঘটনা ঘটে, তাহলে তার দায় কে নেবে?
এসব গাফিলতি বা অনিয়মের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না বলেই আজ সারা দেশের বেশির ভাগ নতুন ভবনের অবস্থা করুণ। নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, গত কয়েক বছরে ভবন ধসে হতাহতের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অনিয়ম ও গাফিলতির জন্য কেউ শাস্তি পেয়েছেন, এমনটা শোনা যায়নি।
সরকারি ভবন নির্মাণে সর্বোচ্চ মানই নিশ্চিত করার কথা। এগুলোর নির্মাণকাজ তদারকির জন্য প্রকৌশলীসহ বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাও রয়েছেন। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোভের কারণে ভবন নির্মাণে যথাযথ মান নিশ্চিত হয় না।
ভবন নির্মাণে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও তার বড় অংশ অপচয় হয় দুর্নীতির কারণে। এ অপচয় বন্ধ করা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। শুধু সরকারি অর্থে নির্মিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নয়, যেখানেই সরকারি নির্মাণকাজ, সেখানেই জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। বিশেষ করে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।