কেশবপুরে মাস্ক না পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা, রশিদ না দিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগ

নয়ন বিশ্বাস, কেশবপুর :- করোনা ভাইরাসের (কোভিড ১৯) সংক্রমন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
মানুষের মাঝে কোনো রকম সচেতনতা নেই। দ্বিতীয় ধাপে করোনার মহামারী ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন । প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষ মাস্ক ছাড়া বেখেয়ালি হয়ে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রতি নিয়ত। রাস্তা-ঘাটে মানুষগুলোর মধ্যে কোনো রকম ভয়ভীতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই।

নো মাস্ক, নো সার্ভিস-এই নির্দেশনা পালনে কঠোর অবস্থানে কেশবপুরের উপজেলা প্রশাসন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে পুনরায় মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত জাহান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইরুফা সুলতানা কেশবপুর ও পাঁজিয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় যৌথ অভিযান চালায়। এসময় মুখে মাস্ক না থাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্ষমতাবলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩০ ব্যক্তিকে অর্থদন্ড প্রদান করেন। এবং টাকা নিয়ে রশিদ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম না বলার স্বার্থে এক ব্যক্তি জানান আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে কিন্তু আমার কোন রশিদ দেয়নি। এমন অভিযোগ ছিল অনেকেরই। পাজিয়া বাজারে অনেকের ভিতর ক্ষোভ সৃষ্টি করে বলেন প্রশাসনের এটা ভিন্ন স্টাইলে দুর্নীতি নয়তো রশিদ না দিয়ে টাকা আদায় করা। সূত্র আরো জানিয়েছে ৩০জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে।

এ দিকে সরকারী খালে পাটা দেওয়ার অভিযোগে কন্দর্পপুর গ্রামের কামরুল বিশ্বাসকে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়।

মাস্কের জন্য অর্থদন্ড নাম প্রকাশ করা ব্যক্তিরা হলেন- খুলনার সুমন রায় ৫শ,কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের ইসমাঈল ৫শ, মাদারডাঙ্গা গ্রামের সুলভ দেবনাথ ৫শ,কোমরপোল গ্রামের কল্যান দাস ৫শ, নারায়নপুর গ্রামের কৃষ্ণনাথ ১শ, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রমেশ চন্দ্র ৩শ, হৃদ গ্রামের হযরত আলী ৫শ, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আবু মুসা ৫শ, নারায়নপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম ৫শ, কেশবপুর শহরের কৃষ্ণ মন্ডল ৫শ, কানাইডাঙ্গা গ্রামের খাইরুল ইসলাম ২শ, রমজান খাঁ ৫শ, খতিয়াখালি গ্রামের মিজানুর রহমান ৫শ, সাবদিয়া গ্রামের মোহন ৫শ, মূল গ্রামের বিকাশ চন্দ্র ১ হাজার, বাঁকা বর্শি গ্রামের লাকি খাতুন ৫শ, রামচন্দ্রপুর গ্রামের শামিম রেজা ৫শ, কেশবপুর শহরের শুসান্ত সাহা ৫শ, কন্দর্পপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ৫শ, কোমরপোল গ্রামের অমিত দাস ৫শ, মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সোবান ৫শ, কুষ্টিয়া জেলার ফুলসারা গ্রামের শরিফুল ইসলাম ৫শ ও পাটকেলঘাটার মাহমুদ শেখ ৫শসহ মোট ৩০ জন। এদের কাছ থেকে নগদ ১৬ হাজার ৩শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।