ধ্বংস হতে চলেছে আশার আলো মহাবিদ্যালয় অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধ্বংস হতে চলেছে নড়াইলে আশার আলো মহাবিদ্যালয়। অধ্যক্ষ রওশন আলম খানের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হতে চলছে কলেজটির। কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
ইতিমধ্যে কলেজের অধ্যক্ষর নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে দেখা করে অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন অধ্যক্ষ রওশন আলম। কলেজের মধ্যে নিজের বাবা-মায়ের নামে অটিজম ও প্রতিবন্ধি স্কুল গড়ে তুলেছেন। কলেজের সাথে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেছেন। তার এই নিয়োগ-বাণিজ্য সম্পর্কে জানতে পেরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজা ডিও লেটার দিলেও পরবর্তীতে ওই ডিও লেটার বাতিল করার জন্য নতুন করে ডিও লেটার দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, নড়াইল সদরের তুলারামপুরের আশার আলো মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রওশন আলম খানের বিরুদ্ধে শিক্ষা বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়েছে। অধ্যক্ষ শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য করার জন্য এলাকায় একে পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তার এই অনিয়ম-বাণিজ্যে রয়েছে পারিবারিক সহযোগিতা। তার ভাইদেরসহ আত্মীয়-স্বজনদের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসান। যাতে খুব সহজেই অনিয়ম-দুর্নীতি করতে পারেন। কাউকে যেন কোন কৈফিয়ত দিতে না হয়।
অভিযোগ অধ্যক্ষ একেক সময় একেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এজন্য চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। চাকরি দিতে না পারলেই নতুন করে খুলে বসেন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এভাবেই অন্তত: দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নিজের গড়ে তোলা ওই প্রতিষ্ঠানের নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন চাকরি। আর আশার আলো মহাবিদ্যালয়েই দিয়েছেন চারজনকে চাকরি। অধ্যক্ষ রওশন আলমের আপন ভাই ও মামার জন্ম তারিখ ও সনদ জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ। তাছাড়া পরিবারের বাইরে যাদের চাকুরি দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে কলেজের উন্নয়নের নামে নেওয়া টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ। আশার আলো মহাবিদ্যালয়ে চাকুরি দেয়ার নামে সদরের পেড়লী গ্রামের মঞ্জুর সরদার, হাতিয়াড়ার ইভা রানী সরকার, বাকলীর মৃনাল অধিকারীর কাছ থেকে টাকা নিলেও তাদের চাকুরি দেননি। শুধু তাই নয়, কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় এলাকার মানুষের জমি নিয়ে চাকরিও প্রলোভন দেখান। কিন্তু জমিদাতাদের কারো পরিবার থেকে কাউকে চাকরি দেওয়া হয়নি। তুলারামপুরের মালেক মোল্যার ছেলে নুর আলী মোল্যাকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে তাদের ১৬ শতক জমি মহাবিদ্যালয়ের বাউন্ডারী ওয়ালের মধ্যে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ছেলের চাকুরি না দেয়ায় মনের কষ্টে মালেক মোল্যা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া উল্টো নিজের মেঝ ভাইকে জমিদাতা হিসেবে দেখিয়ে সভাপতি বানিয়েছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ হতে যে যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সেই যোগ্যতা অধ্যক্ষ রওশন আলমের নেই বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ কলেজের শিক্ষক কর্মচারী নিয়েগের পর নিয়োগপ্রাপ্তির কাগজপত্রের ত্রুটি ধরে তাদেরকে জিম্মি করে। তাদের জানিয়ে দেন কাগজপত্র ঠিক করতে টাকা লাগবে। অধ্যক্ষর চাহিদামত টাকা দিলেই কাগজপত্র ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া এমপিওর জন্য ঘুষ নির্ধারিত আছেই। আর এভাবেই দফায় দফায় টাকা নেন অধ্যক্ষ রওশন আলম।
তারা জানান, অধ্যক্ষ ইচ্ছাকৃত অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও যোগদানপত্র এবং রেজুলেশনে ত্রুটি রেখেছেন। যাতে সারাজীবন তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে।
রওশন আলমের অপকর্মে সহায়তা এবং আর্থিক চাহিদা পূরণ না করায় প্রায় ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানোর পর দুইজনকে চাকুরিচ্যুত করেন। শিক্ষা বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও ধুরন্ধর অধ্যক্ষ রওশন আলম খান নিজ নামে তিনি কিছুই করেননি। সবই করেছেন পরিবারের এবং বিশ্বস্ত ঘনিষ্টদের নামে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ রওশন আলম বলেন, কলেজের যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের যোগ্যতাই নিয়োগ পেয়েছেন। কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। নিজের পরিবারের চারজন চাকরি করছে স্বীকার করে বলেন, তাদের যোগ্যতানুযায়ী চাকরি হয়েছে। এখানে কোন স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার বিষয়ও স্বীকার করেন। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়নি বলে দাবি করেন।