ডিবির ১৫ রাতের পরিশ্রমের সফল সমাপ্তি

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশ অবশেষে সাধারণ মানুষের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়ানো আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশী পিস্তল, একটি প্রাইভেটকার, ওয়াকিটকি, হাতকড়াসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ব্যবহার করেন এমন বেশ কিছু সামগ্রি ।এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা ও র‍্যাব পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিলো। ডাকাত দলের ৩ সদস্য আটক হওয়ায় এই চক্রের অন্যরাও গ্রেফতার হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের লাগাতর চেষ্টায় ধরা পড়েছে তাদের ৩ জন। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঢাকার সাভারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত নায়েব সুবেদার আরিফুল ইসলাম (৪২), মুন্সিগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি গ্রামের হারুন ওরফে বাবু মিয়া (৪২) ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কাদিরপুরের তোফাজ্জেল হক খোকন মিয়া ওরফে জামাল মিয়া (৫৫ ।
কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের হাতে আটক ডাকাত দলের ৩ সদস্য_নিউজথ্রি
কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের হাতে আটক ডাকাত দলের ৩ সদস্য _নিউজথ্রি

ডাকাতদলের সদস্যদের আটকের পর আজ সোমবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে এক প্রেসবিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতারকৃতরা অন্যজেলা থেকে কুষ্টিয়ায় এসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব পরিচয় দিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করছিলো। এ সময় তারা ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও পিস্তল সাথে রাখতো। এ ধরনের কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশও ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। এরই মাঝে রোববার রাতে খবর পাওয়া যায় এই চক্র কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বারমাইলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকশ দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন । তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, ২টি পিস্তল, চাবিসহ ১টি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, সেনাবাহিনী ও স্পেশাল ফোর্স কমান্ড লগোযুক্ত ২টি টি-শার্ট, নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত দুই জোড়া বুট, কালো ক্যাপ, ১১ বোতল ফেনসিডিল, ডাকাতির কিছু সোনা, নগদ ৯২ হাজার টাকা, একটি প্রাইভেটকার, ও বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র।
৩ ডাকাতের কাছ থেকে উদ্ধার পিস্তল ওয়াকিটকি হাতকড়াসহ অন্যান্য সামগ্রি_নিউজথ্রি
৩ ডাকাতের কাছ থেকে উদ্ধার পিস্তল ওয়াকিটকি হাতকড়াসহ অন্যান্য সামগ্রি _নিউজথ্রি

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এই চক্রটি র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে অভিনব কৌশলে ডাকাতি ও ছিনতাই করছিল। এ জন্য আমরাও ব্যাপকভাবে চেষ্টা করছিলাম সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও এই প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে। এদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালি ও বিস্তৃত।

ধরা পড়ার পর এই চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, গত তিন মাসে তারা র‍্যাব, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে অন্তত ২২ টি জেলায় একশটির উপরে ছিনতাই ও ডাকাতি করেছে। তাদের দলের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক জেলায় ছিনতাই ও ডাকাতি করতো।শুধু গত ১৫ দিনে তাদের দলের সদস্যরা কুষ্টিয়া, যশোর ,ঝিনাইদহ ,পাবনা, রাজশাহী , বগুড়া, মানিকগঞ্জ ,বরিশাল, ঢাকা সহ একাধিক জেলায় তাদের অপতৎপরতা চালিয়েছে।

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের সূত্রটি জানায়, এই চক্রকে ধরতে তারাও ব্যাপক তৎপরছিলেন। তাদের ধরতে কুষ্টিয়া ডিবির সকল সদস্য গত ১৫ দিন অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়েছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে। এখন এই চক্রের বাদবাকি সদস্যদের আটক করারচেষ্টা চলছে ।