জাতির করোনাকালীন দু:সময়ে বেনাপোলে অক্সিজেন ব্যাংক

এ আলী, বেনাপোল : করোনার দূর্যোগকালীন সময়ে বেনাপোল পৌরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন নিরলসভাবে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসাবে করোনা ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য তিনি ইতিমধ্যে পৌরভবনে অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করায় ইতিমধ্যে মানুষ সেবা পাচ্ছে এবং এতে ব্যাপকভাবে সাড়া মিলেছে। মুমূর্ষূ রোগীরা বিনা পয়সায় অক্সিজেন ব্যাংক থেকে অক্সিজেন পেয়ে সুস্থ হওয়ায় বেনাপোলবাসীর কাছে হচ্ছে নন্দিত ও প্রশংসনীয়।

জাতির করোনাকালীন দু:সময়ে-দূর্বিপাকে বেনাপোল পৌরবাসীর মানুষের পাশে থেকে কাজ করে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অবিচল ভাবনাকালীন অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন। করোনা ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ২৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করেন এসেবা। করোনা প্রাদূর্ভাবের মুহূর্তে অক্সিজেন সেবা পেয়ে তারা আজ অত্যন্ত উৎফুল্ল। এই কঠিন সময়ে এমন একটি সেবা পেয়ে মুমূর্ষূ রোগীরা সুস্থ হওয়ায় অনেকেই হচ্ছেন আশ্বস্ত। এপর্যন্ত ৭০০ জন রোগীকে সেবা দেওয়ায় সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পৌরসভা ছাড়িয়ে উপজেলায় যে সব রোগীরা শ্বাসকষ্ট পাচ্ছে তাদেরকেও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে এ অক্সিজেন ব্যাংক। এই মহৎ কাজে কিছু তরুণ, বিত্তবান সমাজসেবীরা এগিয়ে এসেছে। দিন দিন নতুন রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সেবা প্রদানে মাঝে মধ্যে সিলিন্ডার সংকটও হয়। তবে “হাসবে মানুষ বাঁচবে প্রাণ, যদি বিত্তবানেরা সহযোগিতার হাতটি বাড়ান” শ্লোগানে বেনাপোল পৌরসভা অক্সিজেন ব্যাংকে অনেকেই দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার।

বড় আঁচড়া গ্রামের জাকির বলেন, আমার ভাগ্নির করোনা পজেটিভে হঠাৎ তার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। আমি নাভারণ , বাঁগআচড়া ও যশোরে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে না পারি নাই। আমার ফেসবুকে বেনাপোল পৌর মেয়রের সাথে এ্যাড থাকার কারণে জানতে পারি বেনাপোল পৌরসভায় একটি অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমি নিজে যেয়ে সেখান থেকে অক্সিচেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করে আনি। ঐদিন আমার অক্সিজেনের এত প্রয়োজন ছিল এবং ঐ সময়ে যদি তা না পেতাম হয়তো একটা ক্ষতি হয়ে যেত। এটা আমার জন্য এবং বেনাপোলবাসীর জন্য বড় একটা পাওয়া যে পৌরমেয়র অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে।

লক্ষণপুরের সবুজ বলেন, এই করোনা প্রাদূর্ভাবকালে অক্সিজেন সংকটে অর্থ থাকলেও তা পাচ্ছে না অনেকেই। বেনাপোল পৌরমেয়র অক্সিজেন ব্যাংক থেকে পরিষেবামূলক অক্সিজেন সরবরাহ করায় আমজনতার জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সময়ের সাপেক্ষে অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেনাপোল পৌরসভাসহ উপজেলাবাসীর অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে অনেকে উপকৃত হয়েছেন এবং অনেক সংকটাপন্ন রোগী সেবা পাচ্ছেন। কাজেই বেনাপোল পৌরসভার এই অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যোগ যেন অনুকরণীয় হয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। গরীব মানুষের বা অনেক মধ্যবিত্তদের অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে বাসায় নেওয়ার সামর্থ্য পর্যন্ত নাই। এ অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোন সময়, রাত-বেরাত যেকোন সময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়েছে, এটা আসলেই তাদের জীবনকে রক্ষা করেছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী অদ্যবধি বেনাপোল অঞ্চলে সে অর্থে কোন স্বাস্থ্য সেবা নাই স্বীকার করে বেনাপোল পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে এ অঞ্চলের একাধিক মানুষ যখন একের পর এক মারা যাচ্ছে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে। তখন আমার মনে হয়েছে যে খাবার, চিকিৎসা উপকরণের পাশাপাশি মানুষকে অন্তত: একটু অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে পারি কিনা। তাহলে অন্তত: মানুষ সেই সংকটকালীন মুহুর্ত্যে অক্সিজেন পেলে আমার বিশ্বাস সে করোনার সাথে ফাইট করে ভাল থাকতে পারবে, বেঁচে থাকতে পারবে। সে ধারাবাহিকতায় পৌরসভার নের্তৃত্বে আমি অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করি। শ্বাসকষ্ট জনিত কষ্ট পাচ্ছিল যে সকল রোগীরা তাদেরকে আমরা অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েছি, তারা সকলেই ভাল আছে। পৌরসভা ছাড়িয়ে উপজেলার যে সকল রোগীরা শ্বাসকষ্ট পাচ্ছে আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদেরকেও সেবা দেওয়ার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের প্রানপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।