নাশকতা মামলার আসামি পরিবারের সদস্যরা এখন বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠে

যশোর :
যশোরের নওয়াপাড়ায় অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোসহ বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্যরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করছে। আসন্ন পৌর নির্বাচনে পৌরসভার আট নং ওয়ার্ডে এ অপকর্ম চালানো হচ্ছে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আওয়ামীলীগে নব্য আওয়ামীলীগ কিম্বা অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনে আট নং ওয়ার্ডে বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্য আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস। তার চাচা মিজানুর রহমান ওরফে মিজান বিশ্বাস বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি নাশকতা মামলার একজন আসামি। তার আরো এক চাচা সিহাব বিশ্বাস তিনিও নাশকতা মামলার আসামি। রব্বানি বিশ্বাস নামে এক চাচা স্থানীয় বিএনপি নেতা। এই বিএনপি পরিবারের সদস্য হয়ে পৌর নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করে এলাকায় প্যানা মেরেছেন। নিজেকে আওয়ামীলীগার হিসেবে দাবি করছেন। আসন্ন পৌর নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। এতে করে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি পরিবারের সদস্য হয়ে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী কিম্বা নব্য আওয়ামীলীগার বলে দাবি করছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, অভয়নগর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির এক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস নিজেকে আওয়ামীলীগ হিসেবে দাবি করে নির্বাচনে লড়াই করার স্বপ্ন দেখছেন। নাশকতার মামলা থেকে নিজে ও নিজের পরিবারকে বাঁচিয়েছেন। আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস ওই যুবলীগ নেতার আশ্রিত থেকে এখন ভোট করার স্বপ্ন দেখছেন। যুবলীগ নেতার আশ্রিত থাকার কারণে কেউ আয়াতুল্লাহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে সাহস পায়নি।
অভয়নগর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অর্জুন সেন বলেন, বিএনপি জামায়াত পরিবারের কোন সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের কেউ না। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকার মানুষ জানায়, আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস স্থানীয় বৃদ্ধ পীর মোহাম্মদ মোল্যাকে নিয়েও নোংরা খেলায় নেমেছেন। পীর মোহাম্মদ মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর পায়তারায় নেমেছেন। প্যানায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় এবং পীর মোহাম্মদ মোল্যার ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনী দোয়া চেয়েছেন। পীর মোহাম্মদ মোল্যাকে বীরমুক্তিযোদ্ধা খেতাব দিয়েছেন। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য পীর মোহাম্মদ মোল্যা কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে। নিজের স্বার্থ সিদ্ধি হাসিল করতে আয়াতুল্লাহ এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিতর্ক করছে। যেভাবে বিএনপি জামায়াতের সাথে আঁতাত করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে, সেইভাবেই আয়াতুল্লাহ একই কাজ করছে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে যে কেউ যখন তখন ছিনিমিনি খেলবে আমরা কেউ তা মেনে নেব না। যারা মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে দেশে ঘরে ঘরে অমুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা বনে যাবে।
মুক্তিযোদ্ধা পীর মোহাম্মদ মোল্ল্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী আহম্মদ খান বলেন, পীর মোহাম্মদ মোল্যা কোন মুক্তিযোদ্ধা না। কেউ যদি কোন ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চায়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে আয়াতুল্লাহ বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।