অবশেষে কারাগার থেকে মুক্ত হলেন মণিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগের আহবায়ক বাচ্চু

যশোর : অবশেষে কারাগার থেকে মুক্ত হলেন যশোরের মণিরামপুরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু। তিনি আজ বুধবার বিকালে যশোর জেলা জর্জ আদালতের বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক এর আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হন।
গত রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী।
জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর আদালত উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও তার মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন। এর আগে ১ অক্টোবর ছয়জনের নামে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ।
২০২০ সালের ১ অক্টোবর সরকারি ত্রাণের চাল কালোবাজারির মামলায় ছয়জনের নামে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- মণিরামপুরের হাকোবা গ্রামের মৃত সুনীল চক্রবর্তীর ছেলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু, জুড়ানপুর গ্রামের একুব্বর মোড়লের ছেলে মো. কুদ্দুস, রবিন দাসের ছেলে জগদীশ দাস, তাহেরপুর গ্রামের মৃত সোলাইমান মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম, বিজয়রামপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে চালকল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও খুলনা দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা গ্রামের রতন হাওলাদারের ছেলে ট্রাকচালক ফরিদ হাওলাদার। চার্জশিটে অভিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চুকে চার্জশিটে পলাতক দেখানো হয়।
২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মণিরামপুর থানার এসআই তপন কুমার সিংহ গোপন সংবাদ পেয়ে মণিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুরের ভাই ভাই রাইস মিলে গিয়ে দেখেন সরকারি চাল ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে। তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জনিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মিল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ট্রাকচালক ফরিদ হাওলাদারকে আটক করেন। এই চাল কাবিখার বলে আটক দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানান।
এ চালের কোনো বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী, ওসি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বায়েজিতসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এরপর ওই ট্রাক থেকে ৫৪৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।