আম্পান পরবর্তী শার্শায় মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা

এ আলী, বেনাপোল : আম্পান পরবর্তী শার্শায় আম গাছে দেখা মিলছে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল। প্রকৃতির আপন খেয়ালে বসন্তের আগমন ঘটায় আম গাছে মুকুলে মুকুলে চারিদিকে বইছে সুবাস। এসময় মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছিরা অন্যদিকে চলছে মৌমাছির মধু সংগ্রহ।
ফাল্গুন মাসে না গরম না শীতে যশোরের শার্শা উপজেলার আম গাছে উঁকি দিচ্ছে ভরপুর মুকুলের সমারোহ। বাতাসে বইছে শোভা পাওয়া মুকুলের মৌ মৌ সুবাস ও মৌমাছির গুঞ্জন। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখার স্বর্ণালী মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ জাদুর মত কাছে টানায় চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা। আমপাতার সবুজ বিছানায় মুকুলের সোনালী রেণু ফাল্গুনকে সাজিয়েছে এক প্রকৃতির ফুলশয্যায়।
আবহাওয়ার ওপর আমের ফলন নির্ভর করায় ইতিমধ্যে বাগান মালিকেরা পরিচর্যা শুরু করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ফলন ভালো হবে বলে এমনটাই আশা করছেন আম চাষিরা।
আম চাষী সাইফুল ইসলাম শুকুর বলেন, গাছে আগাম মুকুল দেখা দেওয়ায় আমরা অনেক খুশি। এই মুকুল যদি টিকে থাকে তাহলে আমের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। তবে ঘন কুয়াশা থাকলে মুকুল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ৭ বিঘা জমির আম বাগান আম্পান ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন্তু এ বছর গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণের আমের মুকুল আসায় এবং আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভাল থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হতে পারব।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, শার্শা উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং এই আবাদে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক জড়িত রয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। এভাবে থাকলে আমের বাম্পার ফলন ও চাষীরা লাভবান হবে। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আম চাষীদের কীট ও ছত্রাকনাশক ৩বার সিডিউল স্প্রে করাসহ সকল ধরণের পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করে যাচ্ছি।