ঝিকরগাছা আমিনী রামচন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগের টাকা ভাগাভাগি দ্বন্দ্বে হাতাহাতি

ষ্টাফ রিপোর্টটার : নিয়োগের টাকা ভাগাভাগি দ্বন্দ্বে হাতাহাতি হয়েছে বলে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের আমিনী রামচন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসায় গত ৮/১০ দিন আগে সকালে। এ হাতাহাতিতে এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এলাকার অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের সূত্রে জানা যায়, অত্র মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি হারুনর রশিদ, বিদ্যোৎসাহী সদস্য আবুল হোসেন সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন তপেসহ অন্যান্য সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে আসছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানের সুপার তরিকুল ইসলামের ছোটভাই বাইসা গ্রামের মনিরুল ইসলামকে ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে স্বেচ্ছাসেবক পদে ও মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি হারুনর রশিদ পাঁচপোতা গ্রামের ইউপি সদস্য জামালের ভাগ্নি চাঁদেরপোল রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিলকিস খাতুনকে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্লিনার পদে নিয়োগ দিয়েছে। পরে কোন এক জনপ্রতি সভাপতিকে উপজেলায় ডেকে নিয়ে নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর করে নেয়। তবে শর্ত থাকে যে ঊভয় নিয়োগ থেকে মাদ্রাসা উন্নয়নকল্পে ২’লক্ষ টাকা দিতে হবে। মাদ্রাসা সুপার কৌশলে প্রতিষ্ঠানে ১’লক্ষ ২০ হাজার টাকা জমা দেন কোন রশিদ ছাড়াই। আরো জানা যায়, ৩০ হাজার টাকা আর দিতে হবে না বলে ৫০ হাজার টাকা সুপারের নিকট থেকে গ্রহণ করে সদস্যরা। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে আবুল হোসেন ও তোফাজ্জেল হোসেন তপের মধ্যে তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে এলাকাবাসির মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন তপে বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানে অনেক কিছু দিয়েছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক না তবে মান সম্মান যা যাওয়ার তাতো চলে গেছে।

স্বেচ্ছাসেবক পদে নিয়োগকৃত মনিরুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার সুপার আমার ভাই এই প্রতিষ্ঠানে চাকরী দিয়েছে। টাকা পয়সা নিয়োগ সবকিছু বিষয়ে আমার ভাই জানে ওটা আমি বলতে পারব না।

সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে মাদ্রাসায় আমার যাওয়ার আগেই হাতাহাতির ঘটনাটি ঘটেছে। টাকা দেওয়ার বিষয়ে সব কথা সত্য না। ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মনিরুলের চাকরী হয়েছে এটা সঠিক না। আর আমার ভাই এ সব ব্যাপারে কিছুই জানেনা। আমি কিভাবে কি করেছি তা কি ও জানে আর ও তো আমার নিজের ভাই টাকা লাগবে কেন। বিলকিসের নিয়োগের ব্যাপারে সভাপতি জানে আমি কিভাবে জানবো। ও টাকা নেছে কি না তা কি আমি জানি।

মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি হারুনর রশিদ বলেন, আমি অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে শোনা কথা যশোর থেকে ৮/১০ দিন আগে শুনেছি মাদ্রাসার সুপার থেকে ৩০ হাজার টাকা খেয়েছে এ নিয়ে লেখার দরকার নাই।