বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে এদেশে হিন্দুরা অত্যাচার নির্যাতন এর শিকার হতো ——– প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য

এ আলী, বেনাপোল :
বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে এদেশে হিন্দুরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শ্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি। তিনি আরো বলেন, এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার উত্তোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি এ দেশে সকল ধর্মের বর্ণের পথের মতের মানুষদের একত্রিত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির জনককে নির্মমভাবে এদেশীয় কিছু পাকিস্তানী দোসররা হত্যা করে। মুজিব শতবর্ষে ওই সব কুচক্রী মহল যাতে আর মাথা উচু করে দাঁড়াতে না পারে তার জন্য সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। শুক্রবার দুপুরে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার নামাচার্য শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রমের নির্মানাধীন মন্দির ও নাট মন্দির কমপ্লেক্স এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, সম্মাননা প্রদান ও সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রমের সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, জাতির জনকের মৃত্যুর পর খুনি মোশতাক, জিয়া, খালেদারাও হিন্দুদের উপর অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন করেছেন। বাধ্য হয়েছে অনেক হিন্দু দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেত। তাই আমি সকল হিন্দুদের বলব বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে শুধু ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত হতে হবে। তাহলে সব উন্নয়ন এর সাথে সকল অবদান হিন্দুদেরও থাকবে। মনে রাখতে হবে এদেশ আমাদের সকলের। তাই সকল রাজনীতি অর্থনীতি সামাজিক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব কর্তব্যও আপনাদের। তিনি বেনাপোল পাটবাড়ি আশ্রম সম্পর্কে বলেন, বিগত ১০ বছর আগে এত উন্নয়ন ছিল না। আজ যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তা দেখে আমি বিস্মিত। তাই এই মন্দির কমপ্লেক্সটি আধুনিকমানের নির্মিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। এখানে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন আমি তা করব। তবে আর এই আশ্রমটিকে ভবন তুলে জায়গা সংকট করা যাবে না। কারন এখানে প্রতিটি অনুষ্ঠানে যে লোক সমাগম ঘটে তাতে যেন সেই সব ভক্ত দর্শনার্থীরা তাদের সুবিধামত ঘোরাফেরা করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সীমান্তে গড়ে উঠা এই আধুনিক আশ্রমটি আমাদের সকলের গর্বের। এখানে দেশ বিদেশ থেকে আসে পর্যটক ভক্তবৃন্দ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যশোর (শার্শা-১) আসন এর সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, হিন্দু কল্যান ট্রাষ্টির শ্যামল সরকার, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল, যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিম কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত, যুগ্ম-সম্পাদক তপন ঘোষাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বৈদ্যনাথ দাস, পাটবাড়ি আশ্রম পরিচালনা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা অঞ্জলী রানী দাস প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাটবাড়ি আশ্রমের যুগ্ম-সম্পাদক সুকুমার দেবনাথ।